আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, সংকট মোকাবিলা এবং জাতীয় আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের যে অবহেলা, হয়রানি ও প্রশাসনিক দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সমস্যায় আমরা অতিষ্ঠ। লাগেজ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অপ্রয়োজনীয় হয়রানি, দীর্ঘ অপেক্ষা, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং প্রবাসীদের প্রতি অসম্মান-এসব দ্রুত সমাধান করতে হবে। আর দেরি করা উচিত নয়।
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাঙালিরা আন্তর্জাতিক জনমত গঠন, অর্থ সংগ্রহ এবং বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময়ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সংকটে প্রবাসীরা কখনোই নীরব দর্শক হয়ে থাকেন না।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রবাসী শুধু বৈদেশিক মুদ্রার উৎস নন। তিনি একজন নাগরিক, একজন ভোটার, একজন বিনিয়োগকারী, একজন পরিবারের অভিভাবক, দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের সমঅংশীদার।
বর্তমানে বহু প্রবাসী বিদেশে যাওয়ার অতিরিক্ত ব্যয়, দালাল ও সিন্ডিকেট, বিমানবন্দরে হয়রানি, লাগেজ সমস্যা, কনস্যুলার সেবার জটিলতা, আইনি সহায়তার অভাব, সম্পত্তি সুরক্ষার ঘাটতি এবং দেশে ফিরে প্রশাসনিক দুর্ভোগের অভিযোগ করে আসছেন। এসব সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান না হলে প্রবাসীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ আরও বাড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা করুণা চান না। তারা সম্মান চান, নিরাপত্তা চান এবং তাদের ন্যায্য অধিকার চান।
তিনি আরও বলেন, “প্রবাসীর অর্থের মূল্য যেমন আছে, প্রবাসী মানুষেরও মূল্য আছে। রেমিট্যান্স নেবেন, কিন্তু রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে ভুলে যাবেন না।
এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ কয়েকটি
জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে:
প্রবাসীদের সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার প্রদান, বিদেশে আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা শক্তিশালী করা, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ করা, লাগেজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিবাসন ব্যয় ও দালাল-সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, দেশে প্রবাসীদের সম্পত্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
অ্যাডভোকেট ঈসা বলেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ শেষ সীমায় পৌঁছেছে। এর অর্থ সংঘাত নয়; এর অর্থ এখন বাস্তব পরিবর্তনের সময়। সরকারকে প্রবাসীদের অভিযোগ শুনতে হবে, সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে এবং বাস্তব অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।”
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এম. এ. রউফ (কাতার) বলেন, প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু রেমিট্যান্সকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। সম্মান, নিরাপত্তা, ন্যায্য সেবা এবং অধিকারভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে জরুরি।
Leave a Reply