বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

ফের এক হচ্ছেন গৌতম ঘোষ ও হাবিবুর রহমান খান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার

পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত নির্মাতা গৌতম ঘোষ ও বাংলাদেশি প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান এ পর্যন্ত একসঙ্গে তিনটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘মনের মানুষ’ ও ‘শঙ্খচিল’-এর পর আরেকটি সিনেমা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। এবার তাঁরা পর্দায় তুলে ধরতে চান কবি জীবনানন্দ দাশকে।
সম্প্রতি রেডিও গাগা নামের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জীবনানন্দকে নিয়ে সিনেমা বানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান। তিনি জানান, জীবনানন্দ দাশের জীবন, সাহিত্য এবং তাঁর অন্তর্দ্বন্দ্বের ওপর ভিত্তি করে রচিত শাহাদুজ্জামানের ‘একজন কমলালেবু’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হবে সিনেমাটি।
হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘সিনেমাটি নিয়ে গৌতম ও আমি দুজনেই এক ধরনের অবসেসড হয়ে আছি। প্রায়ই গৌতমের সঙ্গে টেলিফোনে এটা নিয়ে কথা হয়। ও অনেক দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে রিসার্চ করছে। সিনেমাটি তৈরির বিষয়ে লেখক শাহাদুজ্জামানের সঙ্গে লন্ডনে দেখা করেছে গৌতম।’
এ সিনেমায় জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে কে অভিনয় করবেন, তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে গৌতম ঘোষকে শর্ত দিয়ে রেখেছেন হাবিবুর রহমান খান, মূল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী বাংলাদেশ থেকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘জীবনানন্দ দেখতে একদমই সাধারণ ছিলেন। সুতরাং অভিনয়শিল্পী খুঁজে পেতে অসুবিধা হবে না। আমার সঙ্গে গৌতমের কথা হয়েছে, জীবনানন্দ দাশের চরিত্রের অভিনয়শিল্পী বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হবে। কারণ, বাংলাদেশেই তার জন্ম। এ শর্তে গৌতম রাজি হয়েছে।
জীবনানন্দের এই বায়োপিকে একটি বিশেষ চরিত্রে আফজাল হোসেনকে নিতে চান প্রযোজক। ভূমেন্দ্র গুহ নামের চরিত্রটি সিনেমায় থাকবে সূত্রধরের আকারে। কবির জীবনের শেষ দিনগুলোতে তার পাশে ছিলেন এই তরুণ অনুরাগী। কবির মৃত্যুর পর ট্রাংকভর্তি অনেক অপ্রকাশিত লেখা উদ্ধার করে প্রকাশের ব্যবস্থা করেন ভূমেন্দ্র গুহ।
স্বাধীনতার পর ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ দিয়ে প্রযোজনায় আসেন হাবিবুর রহমান খান। এরপর আশীর্বাদ চলচ্চিত্রের ব্যানারে প্রযোজনা করেছেন ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘প্রাণ সজনী’, ‘নাত বৌ’, ‘বাঁধনহারা’, ‘হঠাৎ বৃষ্টি’সহ প্রচুর হিট সিনেমা। চলচ্চিত্রের সঙ্গে আজীবন পথচলা এই সৃষ্টিশীল প্রযোজক আগামী নভেম্বরে পা রাখবেন ৮২ বছর বয়সে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে জীবনানন্দের বায়োপিক নিয়েই যাবতীয় স্বপ্ন তার।
হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘সিনেমাটি নিয়ে স্বপ্ন দেখছি। আমি ওই পর্যন্ত থাকব কি না জানি না। তবে এ সিনেমাটি শেষ করে মরে গেলেও আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। জীবনানন্দের সঙ্গে বাঙালি জাতি যা ব্যবহার করেছে, উনি যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, সিনেমাটি করতে পারলে হয়তো উনি কিছুটা হলেও আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। এটা আমার ধারণা। এ কারণেই সিনেমাটি করা উচিত।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories