রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ায় অচলাবস্থা। ইম্পা, ফেডারেশনের মতো সংগঠনগুলিতে ‘ঘুঘুর বাসা’ তৈরির অভিযোগ উঠেছিল প্রাক্তন শাসকদলের বিরুদ্ধে। তবে নির্বাচনী রেজাল্টের একশো দিন পেরলেও টলিউডের অচলাবস্থা কাটেনি। এবার সেই সমস্যার নিষ্পত্তি করতেই টলিউডে সরাসরি নির্বাচনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের।
খবর, মাস দুয়েক বাদেই টলিউডের ২৬টি গিল্ডের নির্বাচন হবে। সোমবার নন্দনের বৈঠকে নির্বাচনী নির্ঘণ্টও নির্ধারণ করা হয়। জানা যায়, আগামী ৩১ অক্টোবর এবং পয়লা নভেম্বর ফেডারেশনের আওতাধীন ২৬টি গিল্ডে ভোট হবে। এরপর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নতুন কমিটি গঠন করে কলাকুশলীদের নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিন বিকেলে নন্দনে মিঠুন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, অভিনেতা জিৎ, পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, প্রযোজক অতনু রায়চৌধুরি-সহ আরও অনেকে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। এছাড়াও টলিপাড়ার সব গিল্ডের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন।
বৈঠক শেষে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, “যতদিন না নির্বাচন হয়, ততদিন চোখ খোলা থাকবে। ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও নর্দমা থাকবে না।” জিৎ জানালেন, “গোটা বিষয়টা মিঠুনদার নেতৃত্বই হল। ভালো লাগছে। আগামীতে আরও বৈঠক হবে। ইম্পাতেও ভোট হবে।” ফেডারেশনের আওতাভুক্ত গিল্ডগুলির নির্বাচন, সদস্যপদ এবং গিল্ডের কার্ড নিয়ে পূর্বতন সরকারের আমলে দীর্ঘ দিন ধরে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, এদিনের মিটিংয়ের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল এগুলিই। সেসবের সমাধান করতেই মাস দুয়েক বাদে ভোটের মাধ্যমে ফেডারেশনের নয়া কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গিল্ডের বৈধ সদস্যরা নতুন কার্ড পাবেন বলেও জানা গিয়েছে। যে কার্ড ব্যতীত ভবিষ্যতে টলিপাড়ায় কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে না বলেই জানানো হয়েছে বৈঠকে।
Leave a Reply