গাজীপুরের টঙ্গীর কেরানিটেক বস্তিতে গড়ে উঠেছে এক বিশাল মাদকের সাম্রাজ্য। টঙ্গীর মাজার বস্তির মাদক কেনাবেচা স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়ন্ত্রেন নিয়ে আসার পর থেকে কেরানীরটেক বস্তিতে গড়ে উঠেছ মাদকের সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন কুলসুম নামের এক নারীসহ দত্তপাড়া ও কেরানীরটেক বস্তিতে তার বিশাল বাহিনী, যিনি এলাকায় এখন ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত। এক সময়ের দেহপসারিনী এবং পরবর্তীতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য বা ভিক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে মাদক ব্যবসার বদৌলতে তিনি ও তার পুরো পরিবার আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। বর্তমানে তাদের রয়েছে অঢেল সম্পত্তি, বিলাসবহুল বাড়ি ও গাড়ি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করা কুলসুম মাদক ব্যবসার সুবাদে এখন কোটি টাকার মালিক। রেলওয়ের জিআরপি পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা পুলিশ (আরএনবি) সহযোগীতায় সরকারি জায়গা দখল করে কুলসুম এবং কার বাহিনী গড়ে তুলেছেন স্থায়ী মাদক স্পট। আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন এই স্পট থেকে পরিচালিত হচ্ছে ইয়াবা, গাজাসহ বিভিন্ন মাদকের রমরমা কারবার। শুধু কুলসুম নিজেই নন, তার পরিবারের প্রায় সবাই এখন এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। রাজরানীর মতো জীবনযাপন করছেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে কেরানিটেক বস্তিতে অভিযান চালানো হলেও থামানো যাচ্ছে না কুলসুমের কারবার। বহুবার অভিযানে তিনি ও তার সহযোগীরা আটক হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো পুরোনো ব্যবসায় ফিরে যায় এবং আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে কুলসুম।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুলসুমের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। রেলওয়ের জায়গা দখল করে মাদকের আড্ডা বসানো এবং প্রতিনিয়ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই মাদক সম্রাজ্ঞী কুলসুম এবং তার পুরো বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে কেরানিটেক বস্তিকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা হউক। উল্লেখ থাকে যে, মাজার বস্তির পরেই বর্তমানে কেরানীরটেক বস্তিটি এখন গাজীপুরের টঙ্গীতে সব চেয়ে মাদকের বড় হাট।
Leave a Reply