মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক এবং গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আশুতোষ সাহা-এর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৭ সালের এই দিনে (১৭ জুলাই) তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধে অবদান, সমাজসেবা এবং ভূমিহীন মানুষের কল্যাণে ভূমিকার জন্য তিনি আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।
১৯২৪ সালে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা ঈশ্বর চন্দ্র সাহা ও মাতা শৈলবালা দেবী। নেত্রকোনা দত্ত হাই স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করে তিনি ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হন। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৫৭ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এ যোগ দিয়ে হালুয়াঘাটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
পাকিস্তান আমলে তিনি হালুয়াঘাট ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭১ সালে হালুয়াঘাট সংগ্রাম পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা, শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং যুদ্ধের জন্য নিজস্ব ট্রাক, জিপ ও টেলিফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। এ সময় পাকিস্তানি বাহিনী তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
পরবর্তীকালে তিনি মোজাফ্ফর ন্যাপ ও গণতন্ত্রী পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সমাজসেবা ও ভূমিহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আশুতোষ সাহার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর স্মৃতি ও কর্মের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
Leave a Reply