বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির ছেড়ে দেওয়া আসনে উপ-নির্বাচন ২৯ অক্টোবর : ইসি সচিব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু্র উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: রেলমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ফেনীর ফুলগাজীর ২৮০ জন ধর্মীয় ব্যক্তিকে সম্মানি দেবেন : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু ১২ সেপ্টেম্বর : মীর শাহে আলম যেসব অভিযোগের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল চলতি মাসের ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতকে হারানোর চ্যালেঞ্জ আজ বাংলাদেশের সামনে ব্রিকস সম্মেলনে ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা ও অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধই সরকারের লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী

যেসব অভিযোগের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার

আর্থিক অনিয়ম ও তথ্য গোপনের নানা অভিযোগের মুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন। খবর রয়টার্সের।
২০২৪ সালে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই বড় দায়িত্ব পান সায়মা ওয়াজেদ। তবে দেশের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তার বিরুদ্ধে চীন সফরের খরচে জালিয়াতি, ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দেওয়া এবং অনিয়ম করে জমি বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তদন্ত শুরু করে। এরপর গত জুলাইয়ে তাকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়।
তবে পুতুল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ রাখার কারণে তিনি সংস্থার প্রধানের প্রতি সব আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুসের কাছে লেখা সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগপত্রের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অবৈধভাবে এক জমি দখলের অভিযোগও এনেছে।
সায়মা ওয়াজেদ বলেছেন, তিনি ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগে জমিটির মালিক হন এবং বাংলাদেশের একটি আইন অনুযায়ী তিনি এটি পাওয়ার অধিকারী ছিলেন। ওই আইনে শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের এ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার রাতে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ লিখেছেন, আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্যই আমি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং আমি আন্তরিকভাবেই তা করেছি।
তিনি আরও লিখেছেন, যেহেতু আপনি আমার দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দিয়ে যাচ্ছেন, সেহেতু ডব্লিউএইচওতে আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। তাছাড়া আমাকে অবৈতনিক ছুটিতে রাখার সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে কোনো বেতন বা পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক অবস্থা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য করা অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সকে কোনো জবাব দেয়নি ডব্লিউএইচও। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদ ছুটিতে রয়েছেন, তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে তারা তার মামলা সম্পর্কে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি সূত্র আগেই জানিয়েছিল জাতিসংঘের এ সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সায়মা ওয়াজেদকে অপসারণের পরিকল্পনা করছে।
তাদের একজন বলেছেন, ডব্লিউএইচও আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য মনোনয়ন ঘোষণা করবে, ডিসেম্বরে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করবে এবং আগামী ২৪ জানুয়ারি এ পদে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
আঞ্চলিক পরিচালকরা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী স্বাস্থ্যনীতি কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম। প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নীতিগুলো মানিয়ে নেওয়ার মতো দায়িত্ব তাদের রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশ ও ভারতসহ সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতি পাঁচ বছর পরপর ভোটাভুটির মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করে।
এদিকে গত জুলাইয়ে ডব্লিউএইচওকে পাঠানো ওই চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ তার আইনজীবীদের মাধ্যমে ভ্রমণসংক্রান্ত যে কোনো জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি ছিল রুটিনভিত্তিক রিইম্বার্সমেন্ট বা খরচ তোলার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময় এক সহকারীর করা প্রশাসনিক ত্রুটি, যার পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।
শিক্ষাগত যোগ্যতার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং এই যোগ্যতার বিষয়টি ডব্লিউএইচও মহাপরিচালককে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories