দেশের অভ্যন্তরে ও ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তিস্তা ও পদ্মা নদীসহ দেশের প্রধান সব নদনদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ এবং পদ্মার পানি ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটি জানায়, রংপুরের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির নির্ধারিত বিপদসীমা ৫২.৬০ সেন্টিমিটার। ২৪ ঘণ্টায় সেখানকার পানি ৪৫ সেন্টিমিটার বেড়ে শুক্রবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টের পানি সমতল ছিলো ৫২.৭৫ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার তুলনায় ১৫ সেন্টিমিটার বেশি।
শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মার পানি শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৫৫ মিলিমিটারে। যা বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার বেশি। এছাড়া, রাজশাহীর সিংড়া পয়েন্টে গুর নদীর পানিও বিপদসীমার উপরে রয়েছে। বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে নেত্রকোনার কংশ এবং খুলনায় কপোতাক্ষ নদীর পানিও।
শুক্রবারের (১৪ আগস্ট) নিয়মিত বুলেটিনে বন্যা তথ্য কেন্দ্র জানায়, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ সুনামগঞ্জ ও পাবনায় ১৩৫ মিলিমিটার করে এবং ছাতকে ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। একই সময়ে ভারতের উজানে পাসিঘাটে ১৭৩, চেরাপুঞ্জিতে ১৩৯ ও দার্জিলিংয়ে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সকাল পর্যন্ত দেশের নদনদীর ১০৯টি পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনের মধ্যে ৭৪টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে। কমেছে মাত্র ২৯টি পয়েন্টে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বেড়ে চলেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতীয় অংশে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে শনিবারের মধ্যে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারি জেলার তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর এলাকায়ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
Leave a Reply