বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে দলটি।
বুধবার সেমিফাইনাল শেষে মাঠে আর্জেন্টিনার জিওভানি লো সেলসো, নিকোলাস ওটামেন্ডিসহ কয়েকজন খেলোয়াড়কে “Las Malvinas Son Argentinas” (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার হাতে উদযাপন করতে দেখা যায়। একই ধরনের ব্যানার ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতেও দেখা যায় এবং সমর্থকদের এ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যামের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ভ্যালেন্তিন বার্কোকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে। পরে দুই দলের খেলোয়াড়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। ১৮৩৩ সাল থেকে দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে।
এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনব্যাপী ফকল্যান্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে প্রায় ৬৫০ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। শেষ পর্যন্ত দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাজ্যের কাছেই থেকে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো মারাদোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের পেছনেও ফকল্যান্ড যুদ্ধের আবেগ বড় ভূমিকা রেখেছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন এবারও দেখা গেল বিশ্বকাপের মঞ্চে।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী, খেলার মাঠে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার বা পোস্টার প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তাই আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
Leave a Reply