টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্তে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানার পর উড়িষ্যার তালসারি মেরিন থানাতেও এফআইআর দায়ের করেছেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা।
শুটিং চলাকালীন গাফিলতির অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে এফআইআরেই। প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস-এর কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা রয়েছে এই এফআইআরে।
রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চেয়ে এবং শনিবার (৪ এপ্রিল) আর্টিস্ট ফোরাম রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। আর্টিস্ট ফোরামের দাবি, রাহুলের অকালমৃত্যুর দায় প্রযোজনা সংস্থারই। শনিবার অভিযোগ জানাতে প্রিয়ঙ্কা সরকারের সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যীশু সেনগুপ্ত, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, সৌরভ দাস-সহ অন্যরা। পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে এই অভিযোগ দায়ের করছেন তারা। রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিলও হয় শহরে। মিছিলে ছিলেন অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, জুন মালিয়া, ঋত্বিক চক্রবর্তী, অরিন্দম শীল, পিয়া সেনগুপ্তর, ঋষি কৌশিকরা। রাহুলের সাদা-কালো ছবি নিয়ে রাস্তায় হাঁটেন তারা।
মিছিল শেষে রাত ১১টার পর উড়িষ্যার ওড়িশার তালসারি কোস্টাল থানায় প্রিয়াঙ্কা সরকারকে নিয়ে পৌঁছান প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, যিশু সেনগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সৌরভ দাস ও ইন্দ্রাশিস রায়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে, রাত ২টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে রাহুলের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তারা।
উড়িষ্যার পুলিশের বালেশ্বর জেলার অ্যাডিশনাল এসপি দেবজ্যোতি দান জানান, ইতোমধ্যেই মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি জানান, এফআইআরটি সর্বসমক্ষে দেখার জন্য অনলাইনে আপলোড করা হবে। তিনি আরও বলেন, উড়িষ্যা পুলিশ অত্যন্ত সহযোগিতামূলক ভূমিকা নিয়েছে। পুলিশ মৃত্যুর সঠিক তদন্ত করবে বলেই তার আশা। এদিন থানা থেকে বেরিয়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
গত ২৯ মার্চ তালসারির সমুদ্রে শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মারা যান রাহুল। তবে তার মৃত্যু ঘিরে শুরু থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পরিষ্কার হয়নি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। প্রযোজনা সংস্থার সদস্যদের বয়ানে একাধিক অমিল পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সমুদ্রের জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই এই মৃত্যু। তবে অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শুটিং চলছিল এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নাকি নেয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আর্টিস্ট ফোরাম ও প্রিয়াঙ্কার এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং যাদের গাফিলতিতে এই মৃত্যু, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।
Leave a Reply