পাকিস্তানি জাতীয়তার কারণে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) কোচিংয়ের সুযোগ হারিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার আজহার মেহমুদ। সম্প্রতি উইজডেন ক্রিকেট উইকলিতে অংশ নিয়ে তিনি জানান, প্রায় চার বছর আগে কোভিড মহামারির পর সিপিএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে জাতীয়তার কারণে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। মেহমুদের ভাষায়, আমি পাকিস্তানি হওয়ার কারণে তারা বলেছে-দলে কোনো পাকিস্তানি কোচ বা খেলোয়াড় রাখা সম্ভব নয়।
১৯৯৬ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি মেহমুদ ছিলেন সনামধন্য পেস বোলিং অলরাউন্ডার। টেস্টে তিনি খেলেছেন ২১টি ম্যাচ। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে তিনি সারে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ২০০২-২০০৭ ও ২০১৩-২০১৬ সাল পর্যন্ত এবং কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবে ২০০৮-২০১২ সাল পর্যন্ত খেলেছেন। ২০১১ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান।
মেহমুদ ২০১৬ সালে পাকিস্তান যুব দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পান এবং তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে জেসন গিলেস্পি সরে যাওয়ার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় দলের পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান সুপার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও বোলিং কোচের দায়িত্ব সামলেছেন।
মেহমুদ বলেন, বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের পরিস্থিতি তার জন্য আদর্শ নয়। ইংল্যান্ডে স্বীকৃত কোচ হিসেবে সারে কাউন্টি ক্রিকেটে কোচিং করেছেন, পাকিস্তান দলের দুই বছরের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তবে এই দুই বছর পাকিস্তান সেটআপে থাকার কারণে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি দায়িত্ব পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।
মেহমুদ আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এখন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ কেন্দ্রিক। এসএ২০, মেজর লিগ ক্রিকেটসহ চার-পাঁচটি লিগ আইপিএলের মালিকানাধীন কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। ফলে ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলোতে কোচ বা খেলোয়াড় হিসেবে সুযোগ পাওয়া কঠিন। বিষয়টি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা তৈরি করছে।
বিবিসি জানিয়েছে, দ্য হান্ড্রেড এর ভারতীয় মালিকানাধীন চার ফ্র্যাঞ্চাইজি- এমআই লন্ডন, সানরাইজার্স লিডস, ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস এবং সাউদার্ন ব্রেভ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নিলামে সই করাবে না।
মেহমুদ বলেন, ইংল্যান্ডে বড় পাকিস্তানি কমিউনিটি রয়েছে এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে। তিনি আশা করেন, ইসিবি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
এদিকে ইসিবি জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো দলকে নির্দিষ্ট খেলোয়াড় কিনতে বাধ্য করতে পারবে না। তবে নির্বাচনে বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক কারণে কোনো ক্রিকেটার যেন বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্কবার্তাও দেয়া হয়েছে।
ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এবং সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন। ভন বলেছেন, ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে রাজনীতির প্রভাব থাকা উচিত নয়। ব্রুকের মতে, হানড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ না দেয়া দুঃখজনক।
Leave a Reply