আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র, সরঞ্জাম বা দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও প্রচার করা থেকে আনসার সদস্যদের কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ঢাকা মহানগর আনসারের এক বিশাল প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ এ কথা বলেন তিনি। এতে ঢাকা মহানগরের ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী মোট ২৭ হাজার ৭০৩ জন আনসার সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে মহাপরিচালক নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে ‘নির্বাচনি সুরক্ষা অ্যাপস,’, সমন্বিত সিকিউরিটি রেসপন্স সিস্টেম এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মহাপরিচালক বলেন, “ঐতিহ্যগত সেকেলে প্রক্রিয়া ভেঙে আমরা এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় পদার্পণ করেছি। সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন থেকে শুরু করে খাবার ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ এখন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। এর ফলে বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো অনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিজ বিবেক ও কমান্ড অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।”
বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আপনারা কেবল একটি বাহিনীর সদস্য নন-আপনারা জাতীয় পতাকার মর্যাদার রক্ষক এবং সাধারণ ভোটারের প্রতিনিধি। আপনারা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নন; দেশের মাটি ও মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই আপনাদের একমাত্র পরিচয়। সন্ত্রাসীদের চাপ থাকলে ভয় পাওয়া যাবে না। সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে, বিশৃঙ্খলা হলে কোনোভাবেই ভোট কেন্দ্র ছাড়া যাবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং সরাসরি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল মনিটরিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিভ্রান্তি রুখতে বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও সক্ষম। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বা শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি জানান, সারাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ ৫৬ হাজার ১২৭ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন, যার সর্বোচ্চ অংশ ঢাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০৩ জন সদস্য। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে প্রশিক্ষিত সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
Leave a Reply