রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে ইয়াসমিন (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ইতোমধ্যে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কদমতলীর দনিয়া নুরপুর চিলড্রেন গার্ডেন স্কুল বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইয়াসমিন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার মেয়ে।
ইয়াসমিনের ছেলে আল-আমিন জানান, ২ থেকে আড়াই বছর আগে নজরুল নামে একজনের সঙ্গে তার মা ইয়াসমিনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এ কারণে মায়ের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না তাদের। আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন ইয়াসমিন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে সৎ বাবা নজরুল তাকে ফোন করে বলেন, তোমার মায়ের খোঁজ নাও। তোমার মামা তোমার মাকে মেরে ফেলেছে। সে সময় এর বেশিকিছু তিনি বলেনি এবং এরপর থেকে নজরুলের ফোন বন্ধ। অন্যদিকে মায়ের ফোনে কল করেও তাকে পাচ্ছিলেন না তিনি। পরে বুধবার বিকেলে মায়ের বাসায় গিয়ে দেখেন, রুমের দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো। একপর্যায়ে ছিটকিনি খুলে ভেতরে গিয়ে দেখেন, তার মা বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর তারা পুলিশে খবর দেন।
আল-আমিনের অভিযোগ, আমার মাকে নজরুলই মেরে ফেলেছে। তাকে ধরলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন নাহান গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় স্বামী নজরুলের সঙ্গে কদমতলীর ওই বাসায় থাকতেন ইয়াসমিন। ঘরের বিছানার ওপর থেকে মরদেহটি উদ্ধারের সময় দেখা গেছে, ইয়াসমিনের নাক দিয়ে তরল পদার্থ বের হচ্ছিল। এছাড়াও তার গলা ও কাঁধ লালচে বর্ণের ছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে।
এসআই কামরুন নাহার আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত ইয়াসমিনের মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
Leave a Reply