জুলাই আন্দোলনের শুরুর দিকে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে খুব সহজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আন্দোলনের অবসান ঘটাতে পারতেন, এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর যথেষ্ট সুযোগ ছিল। উল্লেখ্য, একই কোটা ব্যবস্থা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আগেও একবার সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেছিল।
রায়ে বলা হয়, ওই ইস্যু পুনরায় কীভাবে সামনে এলো, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে শেখ হাসিনা শুরুতেই হস্তক্ষেপ করলে আন্দোলন সহিংস রূপ নিত না। বরং আন্দোলনকারীদের অবমূল্যায়ন করার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ সহিংসতার দিকে গড়ায়, যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলন দমনে যে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, বৃদ্ধ, শিশু, নারীসহ আন্দোলনকারীদের ওপর যে নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে, তা দেশ-বিদেশে মানবিক বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। আদালতে কক্ষে প্রদর্শিত ভিডিও ও সাক্ষ্যপ্রমাণে হতাহত আন্দোলনকারীদের আর্তনাদ এবং মাথার খুলি, চোখ, নাক, হাত-পা হারানো ভুক্তোভোগী সাক্ষীদের দেখে কোনো মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন। এই ধরনের নৃসংশতা যেকোনো মূল্যে চিরতরে বন্ধ করা উচিত এবং এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারকে ব্যর্থ হতে দেয়া উচিত না।
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি আরেকটি মামলায় তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে।
Leave a Reply