বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পল্লী বিদ্যুতের সেবা নিতে গিয়ে গ্রাহকের চরম ভোগান্তির অভিযোগ গাজীপুরে ৬০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১॥ কাভার্ড ভ্যান জব্দ কবি ও সংগঠক রাহনামা শাব্বীর চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ: বেলা শেষে কেউ নেই-এর পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠিত নরসিংদীর মাধবদীতে হত্যা-ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন, ৯ দিনের মাথায় ৭ ডাকাত গ্রেফতার অভিনেত্রী স্নিগ্ধাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা’: আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন আশিয়ান চেয়ারম্যান নজরুল হালুয়াঘাট হাট-বাজার পরিস্কার -পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু হালুয়াঘাটে উল্টো রথ যাত্রার মধ্যদিয়ে শেষ হল জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা উৎসব বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ ডিসি স্বাধীন গণমাধ্যম নীতিমালা তৈরিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝরল মেয়ের প্রাণ

দেশের সব হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৮৭ বার

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের নেতারা। তারা বলেন, ওষুধ ব্যবস্থাপনায় ফার্মাসিস্ট না থাকায় দেশে প্রতিনিয়ত ওষুধের ভুল ব্যবহার, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং ওষুধজনিত বিরূপ প্রতিক্রিয়া (এডিআর) বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলা মোটরের ওয়াটারফল কনভেনশন হলে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষ্যে ফোরাম আয়োজিত র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মো. আজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর।
এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন প্রফেসর ডা. মো. সেলিম রেজা, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক ডা. মো. আকতার হোসেন, ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশের উপ-পরিচালক মো. আসিফ হাসান, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. আমিরুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. হারুন-অর-রশিদসহ ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে এখনো হাসপাতাল ও কমিউনিটি ফার্মেসি কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে রোগীরা একদিকে ফার্মাসিস্টের সঠিক পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে রেজিস্ট্যান্স ভয়াবহ আকার নিচ্ছে, যা শিগগির প্রতিরোধ করা না গেলে জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
ফার্মাসিস্টস ফোরামের নেতারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আন্তর্জাতিক ফার্মাসি ফেডারেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি হাসপাতালে প্রতি ২৫ শয্যার বিপরীতে একজন ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ দেশের সরকারি হাসপাতালে একজন গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টও নেই। জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬ অনুযায়ী হাসপাতাল ফার্মেসি চালুর নির্দেশনা দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফোরামের নেতৃবৃন্দ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. সারাদেশের সকল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্টের পদসৃজন, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, দেশের সকল হাসপাতাল ও প্রাথমিক সেবাকেন্দ্রে দ্রুত ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। তারা চিকিৎসকের সঙ্গে রাউন্ডে অংশ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবস্থাপনা, ডোজ পর্যালোচনা, ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন ও রোগীর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবেন এবং ওষুধজনিত বিরূপ প্রতিক্রিয়া (এডিআর) হ্রাস, নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবেন।
২. দেশের সকল হাসপাতালে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে হাসপাতাল ফার্মেসি চালু করতে হবে, যা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। জাতীয় ওষুধনীতি, ২০১৬ অনুযায়ী চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ও নার্সের সমন্বয়ে প্রতিটি হাসপাতালে ‘ড্রাগ অ্যান্ড থেরাপিউটিকস কমিটি (ডিটিসি)’ গঠন করে হাসপাতাল ফর্মুলারি প্রণয়ন করতে হবে। এই ফর্মুলারির ভিত্তিতে ফার্মাসিস্টরা ওষুধের প্রাপ্যতা, সঠিক সংরক্ষণ, গুদাম ব্যবস্থাপনা (ইনভেন্টরি) এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবেন।
৩. দেশের ওষুধ শিল্পে নিয়োজিত সকল ফার্মাসিস্টদের জন্য উন্নত বেতন কাঠামো এবং পেশাগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সারা দেশে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধানে একটি শক্তিশালী ফার্মেসি সেবা কাঠামো (কমিউনিটি ফার্মেসি নেটওয়ার্ক) গড়ে তুলতে হবে। এই ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ পুনর্মূল্যায়ন (রিকনসিলিয়েশন), রোগী পরামর্শ (কাউন্সেলিং) এবং সঠিক বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শুধু গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট পরিচালিত প্রতিষ্ঠানকেই ‘ফার্মেসি’ হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং সকল ফার্মেসিকে জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে হবে।
৫. চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ‘চিকিৎসাপত্র ছাড়া, ওষুধ নয়’ নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি ওষুধ পরিদর্শন (ড্রাগ ইন্সপেকশন) কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। এজন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অধীনে ফার্মাসিস্ট প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।
৬. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আন্তর্জাতিক ফার্মাসিস্ট ফেডারেশনের (এফআইপি) নির্দেশনা অনুযায়ী শুধুমাত্র ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটরাই ‘ফার্মাসিস্ট’ হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৩ সালের ‘ওষুধ ও প্রসাধনী আইন’ অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি সকল নিয়োগে কেবলমাত্র গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের ‘ফার্মাসিস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মানবসম্পদ ডাটাশিট (এইচআরএইচ ডেটা শিট) ২০২৩ ও ফার্মেসি কাউন্সিলের চার্টারেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন, সার্কুলার ও দাপ্তরিক নথিপত্রেও এই বিষয়টির প্রতিফলন জরুরি। এতে বিভ্রান্তি হ্রাস পাবে, ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা সুসংহত হবে এবং জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়া, দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মা-ডি কোর্স চালু ও বি.ফার্ম সম্পন্নদের জন্য ২ বছরের পোস্ট-ব্যাচেলরিয়েট ফার্মা-ডি কোর্স প্রবর্তন করতে হবে। এবং ফার্মাসিস্টদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড বেতন কাঠামো ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, এবারের ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবুন, ফার্মাসিস্ট নিয়ে ভাবুন’। স্বাস্থ্যচিন্তার সাথে ফার্মাসিস্টের সম্পৃক্ততা অনিবার্য—এটি শুধু একটি আহ্বান নয়, বরং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরার বৈজ্ঞানিক প্রয়াস।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories