আজ ২৪ জুন, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি ৩৮ বছরে পা রাখলেন। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে ১৯৮৭ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন এই জাদুকর, যিনি প্রতিভা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে পরিণত করেছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে।
রোজারিও শহরেই জন্মেছিলেন আরেক বৈপ্লবিক চরিত্র চে গুয়েভারা। শুধু শহর নয়, জন্মমাসও এক। চে’র জন্ম ১৪ জুন, মেসির ২৪ জুন। আবার মেসির নামকরণও এক গানের তারকার নামে, বিখ্যাত মার্কিন গায়ক লায়োনেল রিচির ভক্ত ছিলেন মেসির মা সেলিয়া কুচিত্তিনি। তার অনুপ্রেরণাতেই ফুটবল ঈশ্বরের নাম রাখা হয় ‘লায়োনেল’।
শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি অদম্য টান ছিল মেসির। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক, আর এরপর থেকে ইতিহাস শুধু তার দখলে। শৈশবে মেসির আদর্শ ছিলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পাবলো আইমার, যার জার্সি আজও মেসির সংগ্রহে রয়ে গেছে।
চমক রেখে বাংলাদেশ দলের স্কোয়াড ঘোষণা বাফুফের, জায়গা পেলেন যারা
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল আরও এক দেশ
ইসরায়েলি আগ্রাসনে মারা গেলেন স্বর্ণজয়ী ইরানের কারাতে খেলোয়াড় হেলেনা
বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পুরস্কার মেসি জিতেছেন সব। ফুটবলকে দিয়েছেন একের পর এক রেকর্ড, যা হয়তো ভবিষ্যতে আর কেউ ছুঁতে পারবে না।
জন্মদিনে দেখে নেয়া যাক মেসির কিছু অসাধারণ ও দুর্লভ রেকর্ড-
সর্বোচ্চ ৮টি ব্যালন ডি’অর জয়।
একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুটি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জিতেছেন (২০১৪, ২০২২)।
বার্সার হয়ে সর্বোচ্চ গোল (৬৭২)।
লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা (৪৭৪)।
এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৫০ গোল (২০১১–১২)।
সর্বোচ্চ ১৯২ অ্যাসিস্ট (লা লিগা)।
সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিক (লা লিগায় ৩৬, চ্যাম্পিয়নস লিগে ৮)।
এক বছরে সর্বোচ্চ ৯১ গোল (২০১২)।
এল ক্লাসিকোতে সর্বোচ্চ গোল (২৬)।
লা লিগায় সর্বোচ্চ ৫২০ ম্যাচ (বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে)।
১০ লিগ শিরোপা জয়ী (নন-স্প্যানিশ হিসেবে)।
দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা (১১২)।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এক ম্যাচে ৫ গোলের রেকর্ড।
গ্রুপ ও নকআউট মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোল (চ্যাম্পিয়নস লিগ)।
ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ ৭৮ গোল (চ্যাম্পিয়নস লিগ)।
এক ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ ১২০ গোল (চ্যাম্পিয়নস লিগে)।
টানা ১৮ মৌসুমে গোল (চ্যাম্পিয়নস লিগ)।
সর্বোচ্চ ৮ হ্যাটট্রিক (চ্যাম্পিয়নস লিগে)- বিশ্ব তারকাদের সম্মিলিত হ্যাটট্রিক থেকেও বেশি।
ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে সর্বোচ্চ ৪৯৬ গোল।
সর্বোচ্চ ৬টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়।
সর্বোচ্চ ৮ পিচিচি ট্রফি।
লা লিগায় ৩০০ ম্যাচে গোলের রেকর্ড।
এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২৭ ম্যাচে গোল।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২,৩১৪ মিনিট খেলা।
উয়েফা টুর্নামেন্টে এক ক্লাবের হয়ে ১২৩ গোল।
পাঁচটি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করা একমাত্র খেলোয়াড়।
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ১৯৩ ম্যাচ।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা (১৮ বছর ৩৫৭ দিন)।
চারটি বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র আর্জেন্টাইন।
সর্বোচ্চ ২৬ ম্যাচ খেলেছেন বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপে প্রতিটি ধাপে (গ্রুপ থেকে ফাইনাল) গোল করা একমাত্র খেলোয়াড়।
আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৩ গোল।
বিশ্বকাপে ২১টি গোলে সরাসরি অবদান (১৩ গোল + ৮ অ্যাসিস্ট)।
ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ৪৬টি শিরোপা জয়।
টানা ৪ ব্যালন ডি’অর জয়ী একমাত্র খেলোয়াড়।
অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ১৯ ম্যাচ (বিশ্বকাপে)।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ মাঠে থাকার সময় (২,৩১৪ মিনিট)।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ গোল করতে সবচেয়ে কম ম্যাচ (১২৩টি)।
ইন্টার মায়ামির সর্বোচ্চ গোলদাতা, ৫০ গোল স্পর্শ করা প্রথম খেলোয়াড়।
এই রেকর্ডগুলো কেবল সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় সোনালি হরফে লেখা এক অধ্যায়ের নাম লিওনেল মেসি। আজ তার জন্মদিনে বিশ্ব ফুটবল আবারও বলে উঠছে—Messi is the Greatest of All Time (GOAT)
Leave a Reply