করোনা মহামারী রোধে সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের (লকডাউন) দ্বিতীয় দিন আজ (শনিবার)। এদিন রাজধানী ঢাকাসহ গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশের বেশকিছু তল্লাশি চৌকি থাকলেও বেশিরভাগ চৌকিতেই তেমন কড়াকড়ি ছিল না। কোনো কোনো এলাকায় লোকজনকে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
আজ সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহন না চললেও ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে দেখা গেছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, শ্যামপুর, কেরানীগঞ্জ মতিঝিল, শাহবাগ, মালিবাগ, মগবাজার, ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, শ্যামলী, মিরপুর, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা, জসিমউদ্দিন, বিমানবন্দর, আশুিলয়া, নবীনগর, এলাকাসহ গাজীপুর চৌরাস্তা, কােনাবাড়ি, চন্দ্রা. টঙ্গী, গাজীপুরা, বোর্ডবাজার এলাকায় দেখা যায়, রাজপথ ছিল রিকশা এবং কিছু কিছু এলাকায় ইজি বাইকের দখলে। প্রাইভেটকারের চলাচল গতকালের তুলনায় ছিল বেশি।
এদিন ফার্মগেট মোড়ে প্রায় আধাঘণ্টা দাঁড়িয়েও দেখা যায়নি পুলিশের চেকপোস্ট। সংসদ ভবন, তেজগাঁও ও কারওয়ান বাজার থেকে আসা গাড়িগুলোকে অবাধে চলতে দেখা গেছে।
বাংলামটরেও একই দৃশ্য চোখে পড়ে। সেখানে পুলিশের কোনো সদস্যকে দেখা মেলেনি। অনেকটা অবাধেই চলতে দেখা যায় ব্যক্তিগত যানবাহন।
তবে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ এলাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুলিশের চেকপোস্ট ছিল চোখে পড়ার মতো।

কারওয়ান বাজার মোড়ে বিভিন্ন বিভিন্ন দিক থেকে আসা গাড়িগুলো পুলিশের চেকপোস্টের মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা গাড়ি থামিয়ে বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চান। সদুত্তর না পেলে গাড়ির মালিককে গুনতে হয় জরিমানা।
দুপুরে শাহবাগ পুলিশের চেকপোস্টে দেখা যায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও পিক-আপ ভ্যান থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে। উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
শাহবাগে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গতকাল শুক্রবারের চাইতে গাড়ি চলাচল যেমন বেড়েছে তেমনই বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি। যারা বাইরে বের হচ্ছেন তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন। জেল-জরিমানা করেও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
এদিকে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে প্রথমদিন গতকাল শুক্রবার সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাতে গ্রেফতার হন ৪০৩ জন। আর ২০৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয় এক লাখ ২৭ হাজার ২৭০ টাকা। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ৪৪১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার। ততাপি মানুষ জীবনের মায়া না করে বা জেল জরিমানা উপেক্ষা করে রাস্তায় বের হতে দেখা গেছে।
Leave a Reply