নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের একটি কারখানার ১২ ট্রাক জুট ও ৩ ট্রাক কার্টুন ও পলি আটক করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতে দেয় ছাত্র-জনতা। উক্ত মালামাল রাতের আধাঁরে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল নেতা শাহেদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকালে আটক করে থানায় দেয়ার পর গভীর রাতে এসব মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
জানা যায়, আদমজী ইপিজেডে অবস্থিত ইউনেস্কো (বিডি) লিঃ এর চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ডিনকুম ট্রেড ইন্টারন্যাশল এর অনুকুলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ১২ ট্রাক জুট (ফ্লোর ডাস্ট ও গার্বেজ) এবং ৪ মে. টন কাগজের কার্টুন ও ৫০০ কেজি পলি বিক্রির অনুমতি প্রদান করেন। ডিনকুম প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গত মঙ্গলবার ১২ ট্রাক জুট ও ৩ ট্রাক কাগজের কাটুর্ন ও পলি সহ মোট ১৫ ট্রাক মালামাল কাস্টমস গেট পাস করায়। এসময় সাড়ে ৪ মে. টন এর পরিবর্তে প্রায় ২০ টন মালামাল বাহিরে যাচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কাষ্টমস এর রাজস্ব কর্মকর্তা এ, কে, এম এনামুল হকের দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি সরেজমিনে বিষয়টি নিশ্চিত করে কারখানা কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। মালামাল বেশি দেয়ার বিষয়ে আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানায়, তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপন করতে করতে গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত মালামাল নামিয়ে পূর্বের নির্ধারিত সাড়ে ৪ টন মালামাল ট্রাকে দিলে কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ উক্ত ট্রাকগুলি ইপিজেড থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়। এদিকে স্বৈরাচার সরকারের দোষর, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের যুবলীগ নেতা ও হত্যা মামলার আসামী আবু হানিফ হৃদয় মালামাল নিয়ে যাচ্ছে এমন খবরে স্থানীয় ছাত্র-জনতা উক্ত মালামাল আটক করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হেফাজতে দেয়। এ নিয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত থানায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল নেতা শাহেদের সাথে থানা পুলিশের দেন দরবার করতে দেখা গেছে। পরে গভীর রাতে উক্ত ১৫ ট্রাক মালামাল শাহেদ ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন আটকৃত ছাত্র-জনতা। যুবলীগ নেতার মালামাল যুবদল নেতার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী সমর্থকরা হতবাক। নেতা পর্যায়ের লোকজন উভয়ের সাথে আতাঁত থাকায় বিগত দিনে বিএনপির আন্দোলন সফল হয়নি বলে দাবি তাদের। স্থানীয় ছাত্র-জনতা ক্ষোভের সাথে জানায়, কোন দলেরই কেউ আদমজী ইপিজেডে ব্যবসা করতে পারবে না। এখানে শুধু প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে। মালামাল বেশি দেয়ার বিষয়ে ইউনেস্কো কারখান সূত্রে জানা যায়, এ কারখানাটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া এবং ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতির অধীনে ছিল। ইউনেস্কো বিডির কিছু অসাধু ব্যক্তি আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রতিমাসেই বিপুল পরিমান অতিরিক্ত মালামাল উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার করত,এখানে গোপনীয় সূত্রে জানা যায়, কমার্শিয়াল, এইচআর ডিপার্টমেন্ট এবং স্টোর এসব কাজের সাথে জড়িত । এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার সাড়ে ৪ টনের স্থলে প্রায় ২০ টন মালামাল ট্রাকে ভর্তি করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক জানায়, কাগজপত্রে যাদের বৈধ তাদেরকে মালামাল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে আমার করার কিছুই নাই।
Leave a Reply