পূর্ণ বিশ্বাস। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরতে কাজ করত একটি সিএনজি অটোরিকশার গ্যারেজে। তার স্বপ্ন একজন বড় ডাক্তার হওয়ার। গ্যারেজে কাজ করে অদম্য মেধাকে কাজে লাগিয়ে এবার রাউজানের এয়াছিননগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে পূর্ণ।
পূর্ণ বিশ্বাসের বাবা প্রিয়তোষ বিশ্বাস একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক। রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের কুলালপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। ভাড়ায় গাড়িটি চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালান প্রিয়তোষ। তিন ছেলেমেয়েসহ পাঁচজনের সংসারে লেগেই আছে অভাব। অভাব-অনটনেও পূর্ণ বিশ্বাস পড়াশোনা ছাড়েনি। সকালে স্কুল আর বিকেলে স্থানীয় একটি গাড়ির গ্যারেজে কাজ করত সে। পূর্ণ বিশ্বাস বাড়ি ফিরে রাত জেগে পড়ত। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পূর্ণকে অর্থের অভাবে ঠিকমতো বই-খাতা বা পোশাকও কিনে দিতে পারেননি বাবা। কিন্তু অদম্য ইচ্ছা ও অধ্যবসায় কাজে লাগিয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে তাক লাগানো ফলাফল করেছে পূর্ণ বিশ্বাস। তার এ সাফল্য দরিদ্র পরিবারে আনন্দের বান নিয়ে এসেছে, বাবা-মায়ের মুখে ফুটেছে হাসি।
ছেলের বিষয়ে কথা হয় মা নন্দিতা বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের এই অর্জন এলাকার সবার। ছেলের পড়াশোনায় অনেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমরা গরিব, তার বাবা একজন সাধারণ গাড়িচালক। কোনো রকমে চলে আমাদের সংসার। সংসার চালাতেই আমরা হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের ছেলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করেছে, এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। আমাদের স্বপ্ন তাকে ডাক্তার বানানোর। অভাবের সংসারে কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাড় করব জানি না। তারপরও ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাই।
পূর্ণ বিশ্বাস বলে, আমার আজকের এ সাফল্যের পেছনে আমার মা-বাবা ও স্কুলের শিক্ষকদের অবদান অনেক বেশি। আমি ভালো কলেজে পড়ে ডাক্তার হতে চাই। মানুষের সেবা করতে চাই। তবে আমাদের অর্থ সংকটের কারণে আমার আর পড়াশোনা করা সম্ভাব হবে কি না জানি না। সে আরও বলে, ‘আমি দশম শ্রেণিতে পড়ালেখা করার সময়ে স্থানীয় একটি গাড়ির গ্যারেজে কাজ শুরু করি। এখনো আমি ওই গ্যারেজে প্রতিদিন কাজ করি।
Leave a Reply