গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারি গ্রামের আজারুল শেখের ছেলে সোহান মিয়াকে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী নীলা আফরীন মোবাইল ফোনে বগুড়া জেলার গাবতলীতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, স্ত্রী নীলা আফরীন ও তার লোকজন সোহানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার মৃত্যু হলে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালানো হয়। তবে ডাক্তার বলেছেন তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে গাবতলী থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে । সোহানের পরিবার বলছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবার ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, সোশ্যাল মাধ্যম টিক টকে পরিচয় ঘটে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাতবুন গ্রামের হেলাল প্রামাণিকের ছেলে সোহানের। তারপর নীলা আফরীন এর সাথে সােহানের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বেশ কিছুদিন সংসার করার পর, সংসারে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত ৫ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে সালিশি বৈঠকে দেন-মোহরের এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা বুঝে দিয়ে উভয়ের সম্মতিক্রমে তালাক হয় তাদের। পরে আবার তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন রোববার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী নীলা আফরীন মোবাইল ফোনে সোহানকে গাবতলীতে ডেকে নিয়ে মারপিট করে গুরুতর আহত করে, বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মৃত্যু হলে, হাসপাতাল চত্বরে প্রচার চালানো হয় সে আত্মহত্যা করেছে। সাঘাটার জনৈক এক ব্যক্তি সোহানকে সনাক্ত করলে তার গ্রামের বাড়িতে খবর দেয়। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে এসে লাশ নিয়ে সাঘাটার পুটিমারি গ্রামে নিয়ে আসে। এ সময় লাশ এক নজর দেখার জন্য হাজারো নারী পুরুষ সমবেত হয়। এ অস্বাভাবিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুটিমারি গ্রামের রোজ মিয়া বলেন, বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে লাশ গ্রহণ এবং গাবতলী থানা পুলিশকে অবগত করা হয়। পরে পুলিশ প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। আত্মহত্যা না তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সোহানের পরিবার হত্যা মামলার প্রস্ততি চালাচ্ছেন বলে জানান।
Leave a Reply