জাতীয় দলের অন্যতম পেসার আল আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে স্ত্রী পেটানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। আর সেই মামলার পর পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এই তারকা ক্রিকেটার।
গ্রেফতারে কাজ শুরুর পর আল আমিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা।
এসআই জানান, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন, মারধর ও বাচ্চাসহ বের করে দেওয়ার অভিযোগে এজাহারভুক্ত আসামি আল-আমিন হোসেন পলাতক। মিরপুর-২ নম্বর রোডে আল আমিনের বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
গত বৃহস্পতিবার পেসার আল আমিনের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় তার স্ত্রী ইসরাত জাহান একটি লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার মামলা আকারে নথিভুক্ত হয়।
আল-আমিনকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে তার মামা শ্বশুর গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার পর থেকেই আল-আমিন পলাতক। বাসা থেকে পালিয়ে গেছে সে। এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ নেই। তাকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে পুলিশ খুঁজেও গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে পেসার আল আমিনের বিরুদ্ধে ভয়ংকর সব অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন তার স্ত্রী ইসরাত জাহান। রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ১ নং গেটে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ইসরাতের দাবি, অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে আল-আমিনের। মানববন্ধনের ব্যানারে আল আমিনকে নারী নির্যাতনকারী, অর্থ ও নারী লোভী লিখে তার গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ইসরাত।
এ বিষয়ে ইসরাত জাহান বলেন, ‘ওই মেয়ের সঙ্গে আল-আমিনের বিয়ে হয়েছে কি না, তা জানি না। কাবিননামাও পাইনি। তবে ওই মেয়ের সঙ্গে আল-আমিনের অনেক ছবি আছে।’
তিনি বলেন, ‘দুটো বাচ্চা নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো? আমার এখন একটাই চাওয়া, বাচ্চাদের নিয়ে যেন ভালোভাবে সংসার করতে পারি।’
মামলার নথিতে স্ত্রী ইসরাত জাহানের অভিযোগ, ‘গত ২৫ আগস্ট রাতে বাসায় এসে যৌতুকের ২০ লাখ টাকা এনেছি কিনা জানতে চায় আল আমিন। এত টাকা দেওয়া তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানালে আল আমিন তাকে মারধর করে। পরে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ এসে ইসরাত জাহানকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে।’
সেদিন ইসরাত জাহান ৯৯৯-এ কল দিলে তাকে আহতাবস্থায় হাসপাতাল নেওয়া হয়েছিল বলে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এসআই সোহেল রানা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটার আল আমিন ও ইসরাত জাহানের দাম্পত্য জীবন ১২ বছরেরও বেশি সময়ের। তাদের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ৬ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স সাড়ে চার বছর।
Leave a Reply