বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন

এমপির ভাইয়ের গাড়ি আটক, সমস্যায় পুলিশ কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১
  • ৮৪ বার

রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার আটকে দেন ডিএমপি ট্রাফিকের রমনা জোনের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) তরিকুল আলম সুমন। আটকানোর পর চালকের কাছে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান তিনি। তখন টিআইকে চালক উত্তর দেয়, গাড়িতে সংসদ সদস্যের (এমপি) স্টিকার লাগানো আছে, ভেতরে এমপির চাচাতো ভাই বসে আছে, কাগজ লাগবে না।

টিআই তারিকুল আলম সুমন গাড়ি ছাড়বেন না জানানোর পর চালক কাগজপত্র তার হাতে দেয়। কাগজ হাতে পেয়ে টিআই দেখেন, গাড়ির ফিটনেস ও ট্যাক্স-টোকেনের মেয়াদ নেই। ড্রাইভারেরও লাইসেন্স নেই। ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা চালককে বলেন, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই এবং এমপির গাড়ি না হওয়া সত্ত্বেও স্টিকার লাগানোর অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে কুষ্টিয়ার এক এমপির চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। ফারুক হোসেন ফোন করে মোবাইলটি ট্রাফিক পুলিশের ওই কর্মকর্তার হাতে ধরিয়ে দেন। পরে এমপির এপিএস পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ফোনে টিআই তারিকুলকে বলেন, গাড়িতে বসে থাকা ফারুক হোসেন এমপির চাচাতো ভাই। এমপির এপিএস গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য টিআইকে নির্দেশ দেন।

এপিএসের কথায় কান না দিয়ে টিআই তারিকুল তাকে বলেন, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই। এছাড়া অবৈধভাবে গাড়িতে এমপির স্টিকার লাগানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে এই গাড়িতে এমপির স্টিকার যিনি লাগাতে দিয়েছেন তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টিআইয়ের এমন কথা শোনে এপিএস পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ফোন রেখে দেন। টিআই তারিকুল আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে গাড়িটি ডাম্পিংয়ে এ পাঠিয়ে দেন।

এ বিষয়ে সন্ধ্যার দিকে টিআই তারিকুল তার ফেসবুক আইডি থেকে জনসচেতনতার জন্য পোস্ট দেন। কিন্তু তার পোস্ট ফেসবুক থেকে বার বার ডিলিট করে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে টিআই তারিকুল আলম এমনটাই দাবী করেছেন।

তারিকুল আলম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইল সিগন্যালে এ ঘটনা ঘটে। আইন প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে ফেসবুকে আমি একটি পোস্ট করি। কিন্তু আমার পোস্ট কীভাবে যেন ডিলিট হয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকে এক ঘণ্টায় এ বিষয়ে চার বার পোস্ট দিয়েছিলাম। প্রতিবারই আমার পোস্ট ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। এর মানে আমি বুঝতে পারছি না। আবারো পঞ্চমবারের মতো দিলাম দেখি কতক্ষণ থাকে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম পোস্ট দিয়েছিলাম গাড়ির ডকুমেন্টসহ। সেটা কীভাবে জানি ফেসবুক থেকে কে বা কারা ডিলিট করে দিয়েছে। দ্বিতীয় বার ডকুমেন্টগুলো সরিয়ে এ বিষয়ে আরেকটি পোস্ট দেই, সেটিও ডিলিট করে দেওয়া হলো। তৃতীয়বার গাড়ির নাম্বারসহ আরেকটি পোস্ট দেই সেটিও ডিলিট করে দেওয়া হয়। চতুর্থ বার গাড়িতে থাকা সংসদ সদস্যের স্টিকারের ছবিসহ আরেকটি পোস্ট দেই। ঐ পোস্টও ডিলিট করা হলো। ফেসবুকে ট্রাফিক অ্যালার্ট নামে একটি গ্রুপে পোস্ট দিয়েছিলাম তারাও আমার পোস্ট অ্যাপ্রুভ করেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার পোস্টগুলো বারবার ডিলিট করে ফেসবুক থেকে ম্যাসেজ এসেছে আমি নাকি ফেসবুকের কমিউনিটি আইন ভঙ্গ করেছি। আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আবার পোস্ট দিলে আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হবে। আমি বুঝতে পারছি না কোনো আইনে অপরাধ করেছি !

টিআই তারিকুল বলেন, বিভিন্ন সময় অভিযোগ করা হয় আইন সবার ওপর সমানভাবে প্রয়োগ হয় না। এই পোস্টের মাধ্যমে আমি জানাতে চেয়েছিলাম আইন সবার জন্য সমান। পুলিশ ক্ষমতাবানদেরও আইনের আওতায় আনে সেটি পোস্টের মাধ্যমে জানাতে চেয়েছিলাম। আমার পোস্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য বাহবা পাওয়া নয়, বরং সম্মানিত এমপিদের স্টিকার অবৈধভাবে গাড়িতে লাগিয়ে যারা চলাফেরা করছে তারা যেন সাবধান হয়ে যায়। 

ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন তারিকুল

‌‘এই পোস্টটি আমি গত এক ঘণ্টা মধ্যে চার বার দিলাম ! প্রতিবারই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তা ডিলিট করে দেয়, রুলস অমান্য করার অপরাধে ! আমি নিজেও বুঝতেছি না, কোথায় রুলস অমান্য হলো! তাই, ৫ম বারের মতো আবারো দিলাম, দেখি কতক্ষণ টিকে!

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories