গত কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ কারণে বাজারে আগের তুলনায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমেছে। এতে করে সবজির দাম কেজি প্রতি প্রকারভেদে ১০ টাকা করে বেড়েছে। এদিকে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরসহ সর্বত্র প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কম বেশি বেড়েছে, পটল দুদিন আগেও ২০টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম ২০টাকা থেকে বেড়ে ৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৩০টাকা থেকে বেড়ে ৪০টাকা, ঢ্যাঁড়স ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩০টাকা কেজি, শসা ৩০ টাকা থেকে ৪০টাকা কেজি, আলু ১০টাকা থেকে ১২টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ২৮টাকা, দেশীয় পেঁয়াজ ৪২টাকা থেকে বেড়ে ৪৬টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে সবজি কিনতে আসা সাদেকুল ইসলাম বলেন, বাজারে সব ধরনের সবজির দাম দু থেকে তিন দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি ১০টাকার মতো বেড়েছে। একেতো করোনার সময় আয় রোজগার তেমন একটা নেই এর ওপর গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত হওয়ার কাজ কর্ম তেমন একটা হচ্ছে না। এ অবস্থায় যদি কাচা তরিতরকারির দাম বেড়ে তাহলে আমাদের মতো গরিব মানুষজন কীভাবে চলবে। বাজারে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই যে যার মতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন।
হিলি বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বাজারে সরবরাহ থাকায় সবজির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এর মূল কারণ হলো যেসব অঞ্চলে সবজি উৎপাদন হয়, সেসব অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা খেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। আবার অনেক স্থানে বৃষ্টির কারণে সবজির গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমায় দাম কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে বাজারে সবজির সরবরাহ যেমন বাড়বে তেমনি দাম আগের মতো হবে বলেও জানান তিনি।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, কেউ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অহেতুক মূল্য বৃদ্ধি না করতে পারে সে ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি করছি। এর পরেও কেউ যদি বাড়তি মূল্য নিচ্ছেন, এমন প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply