সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন

টঙ্গীতে একই রাতে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৬ মে, ২০২২
  • ৩৫৩ বার

টঙ্গীতে একই রাতে পাশাপাশি দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। সোমবার ভোররাত আনুমানিক ৩টায় স্থানীয় মধ্য আরিচপুর শেরে-বাংলা রোড এলাকার কাজী মনির হোসেন ও পারভেজ এর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বরকত উল্লাহ, উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ, অতিরিক্ত উপ কমিশনার হাসিবুল আলম, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিদর্শক মুখলেছুর রহমান ও পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক রফিকুল ইসলামসহ উর্ধ্বতন কর্মকতারা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, সোমবার ভোর রাত আনুমানিক তিনটার পর ৫/৭ জনের একদল ডাকাত প্রথমে শেরে বাংলা রোড এলাকার কাজী মনির হোসেন রুবেলের দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে আলমারি থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। পরে ওই বাড়ির ছাদ দিয়ে পার্শ্ববর্তী পারভেজ হোসেনের দোতলা বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় ডাকাতরা ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জুনিয়র এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আব্দুল বাতেনের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে ফ্ল্যাটে থাকা আব্দুল বাতেন ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে ঘরের আলমারি থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্নালঙ্কার লুট করতে থাকে। এ সময় বাড়ির লোকজনের ডাক-চিৎকারর আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে ডাকাতদল লুন্ঠিত মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে ডাকাতরা আব্দুল বাতেন এর পরিবারের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী নাহিদাকে ভয় দেখালে ওই যুবতী আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নাহিদা আমজাদ আলী সরকার স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই রাতে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সকাল থেকে উৎসুক জনতা ওই এলাকায় ভীড় জমাতে দেখা গেছে। দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চলে যাবার পর পুলিশের নির্দেশে উভয় বাড়ির মূল ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়।
ভুক্তভোগী কাজী মনির হোসেন রুবেল জানায়, রাতে আমি বাড়িতে একা একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। ডাকাতদল আমার ঘরে প্রবেশ করে আলমারির ড্রয়ার থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। সকালে পাশের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা জানাজানি হলে ঘুম ভেঙে দেখি আমার ঘরেও একই সময়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
অপর ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেন বলেন, রাতে ঘরের সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ভোররাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এসময় ৫/৭জন লোক ঘরের মূল দরজা ভেঙে প্রবেশ করেই আমাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে এবং হাত-পা বেঁধে, মুখে কাপড় গুঁজে দেয় যাতে কেউ কোন চিৎকার করতে না পারে। ডাকাতরা আমাদের ঘরে থাকা নগদ ২৭ হাজার টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৫/৬জন দুস্কৃতিকারী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনের ঘরের দরজা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। একই সময় পাশের আরও একটি বাড়ি থেকেও নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। দুস্কৃতিকারীরা ঘরের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার অনুসন্ধানে কাজ করছে। আশপাশের সিসি টিভির ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories