ভোজ্যতেলসহ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ।আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যুব অধিকার পরিষদ আয়োজিত হয়।সেখানে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হুইলচেয়ারে চেপে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন,‘পৃথিবীর কোনো বিশেষজ্ঞ ধারণা করতে পারেননি শ্রীলংকার জনগণ যে তুষের আগুনে জ্বলছিল, তা বিস্ফোরণে পরিণত হবে। শ্রীলংকার জাতীয় বীর আজ জাতীয় ভিলেনে পরিণত হয়েছে।
বর্ষীয়ান এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩৮ টাকা। তারা মনে করছে, দুই টাকা তো কমই রাখা হয়েছে। ২০০ টাকা তো আর করা হয়নি। এই জাতীয় উপহাস দেশবাসী আর কত দেখবে? আমাদের ঈশান কোণে মেঘ জমেছে, আপনারা রক্ষা পাবেন না। এখনও সময় আছে। খোদার কাছে যেভাবে মাফ চান, জনগণের কাছেও তেমনি মাফ চান।
খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন কাজ নয় উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবীরা আছেন, ভালো-ভালো কথা বলছেন। অনেক পরামর্শদাতা আছেন, যারা সৎ পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের পরামর্শ শোনা হয় কিনা জানি না। সৎজনরা বলছেন, মেগা প্রজেক্টের মায়া ছাড়েন, জনগণের কথা বলেন।
শ্রীলংকার সংকটের উদাহরণ টেনে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, একটি সুন্দর-শিক্ষিত ও শান্তির দেশে হঠাৎ জনগণ ফুঁসে উঠবে, এটি কেউ ভাবতে পারেননি। তাই যতই ঠাট্টা করেন না কেন, দেশে জনগণের এই তুষের আগুন কখন অগ্নিস্ফুলিঙ্গে পরিণত হবে তা টেরও পাবেন না। তখন কী করে দৌড়ে পালাবেন, কোথায় যাবেন? সুতরাং আপনাদের জনগণের কাছে আসতে হবে, জনগণের কথা ভাবতে হবে।
নিরপেক্ষ নির্বাচনে জোর দিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, আমি আগেও বলেছি— একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সর্বজনীন সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আজ আমাদের সবার উদ্যোগ হতে হবে দেশের কল্যাণে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায়, দেশকে কল্যাণকর একটি রাষ্ট্রে পরিণত করার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি জনগণের কথা ভাবুন। আমাদের সবাইকে নিয়ে বসুন, এক কাপ চা খাওয়ান। আমরা আপনাকে সৎ বুদ্ধি দেব। সর্বদলীয় সরকারের নিয়ে চলুন আলোচনা করি। এমনও মানুষ আছে যারা দলকানা নয়, যারা দেশের জন্য সৎপরামর্শ দেবে। নতুবা বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলংকার মতো হবে।
নিজের হাসপাতাল নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই— আমি গরিবের হাসপাতাল চালাই। যেখানে সবচেয়ে কম খরচে গরিবরা চিকিৎসা পায়। সেই হাসপাতালে ৮০ লাখ টাকা ট্যাক্স ধরা হয়েছে।
এর কারণ হলো হাসপাতালের জন্য বেড, ম্যাট্রেস আমরা আমদানি করেছি। নামিদামি কোনো হাসপাতাল যদি এগুলো আমদানি করত, তাহলে ট্যাক্সই দিতে হতো না। অথচ যেহেতু আমার গরিবের হাসপাতাল তারা ৮০ লাখ টাকা ট্যাক্স ধরেছে। এই টাকা কোথা থেকে আসবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি।
সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply