বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কুড়িগ্রামের উলিপুরে জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান সরকারকে ব্যর্থ করতে একটি দল চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে : রিজভী মিরপুরে ফ্ল্যাট পাবেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত পরিবার: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চায় ভারত-রাশিয়া আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ৩ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ গেমস ॥ ইতিহাস গড়ার পরদিনই সর্বনাশ, আগুনে পুড়ে ছাই কিংবদন্তি সাঁতারুর বাড়ি তুরস্কে বীরের সংবর্ধনা পেলেন সালাহ ক্ষমা চেয়ে ফিফা সভাপতির পদ বাঁচালেন ইনফান্তিনো

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১১৩ তম আসরে চ্যাম্পিয়ন জীবন বলি

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২২
  • ১২০ বার

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলার ১১৩ তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজারে চকরিয়ার জীবন বলি।কুমিল্লার শাহজালাল বলিকে হারিয়ে তিনি বিজয়ের মুকুট অর্জন করেন। ১০৯তম আসরেও তিনি চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। সোমবার বিকেলে লালদীঘি সংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে বালুর তৈরী অস্থায়ী মঞ্চে এ বলি খেলা (কুস্তি প্রতিযোগিতা) অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার মানুষ এবারের বলি খেলা উপভোগ করেন।
ফাইনালের শুরু থেকে দর্শকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে জীবন ও শাহজালাল পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। জীবন বেশ কয়েকবার শাহজালালকে ধরাশায়ী করার চেষ্টা করেও পারেননি।
শেষ মুহূর্তে পয়েন্ট ভিত্তিতে তারিকুল ইসলাম জীবনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন খেলার রেফারি আব্দুল মালেক।
বলি খেলাকে কেন্দ্র করে চলছে ৩ দিনের বৈশাখী মেলা। করোনার মহামারির কারণে দুই বছর এ আয়োজন বন্ধ থাকার পর ঐতিহ্যবাহী এ বলি খেলা ও মেলার এবার বসেছে ১১৩তম আসর। প্রতিযোগিতায় অংশ নেন চট্টগ্রাম কক্সবাজার, নোয়াখালী কুমিল্লাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য বলি।
বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সোমবার বিকেল ৩ টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘির চত্বরে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলার ১১৩ তম আসরের আয়োজন করা হয়।
জব্বারের এই বলি খেলায় এবার প্রথম রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল (চ্যালেঞ্জিং বাউট), সেমি ফাইনাল ও ফাইনালে (চ্যাম্পিয়ন বাউট) মোট ৭২ জন বলী অংশ নেন।
বিজয়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সিটি মেয়র রেজাউল করিম।
এদিকে গতলালের বলি খেলা ও রবিবার থেকে শুরু তিন দিনের বৈশাখী মেলার কারণে কয়েকদিন ধরে লালদীঘি, কে সি দে রোড, বক্সিরহাট, সিনেমা প্যালেস, আমানত শাহ রোড, খাতুনগঞ্জ-আসাদগঞ্জগামী রোড সহ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সিএমপির পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে লাগানো হয়েছে সিসি টিভি ক্যামেরা।
তিন দিনব্যাপী এ মেলা আজ এবং আগামীকাল পর্যন্ত চলবে। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের গৃহস্থালি ও লোকজ পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। মাটির তৈরি তৈজসপত্র, মাটির টেপা পুতুল, কাঁচের চুড়ি, পাটপণ্যের পাশাপাশি কাঠের পুতুল, খেলনা, বাঁশ-বেতের জিনসিপত্র আর মুড়ি-মুড়কি বাতাসার দোকানের ভিড় লেগেছে।
বৈশাখের তপ্ত দুপুরে মাথার ওপর প্রচণ্ড তাপদাহ। তারই মাঝে বাহারি গ্রামীণ পণ্যের পসরায় সেজেছে লালদিঘী মাঠের আশে পাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা। মেলায় এসেছে নানা বয়সী মানুষ।
উল্লেখ্য- ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে লড়তে দেশের তরুণ যুবকদের শারীরিকভাবে তৈরি করতে এই বলী খেলার প্রচলন করেছিলেন চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার বাসিন্দা আবদুল জব্বার। ধারাবাহিকভাবে শত বছর পেরিয়ে বর্তমানে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী লোকজ উৎসবেই শুধু পরিণত হয়নি এই খেলা, ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসেও।

বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব, শক্তিমত্তা প্রদর্শন ও মনোবল বাড়ানোর জন্য ঐতিহাসিক জব্বারের বল খেলা জব্বারের বলি খেলা এক ধরনের কুস্তি। যা চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘির ময়দানে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয়। এ খেলায় অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় ‘বলি’। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘কুস্তি বলি খেলা’ নামে পরিচিত। এটি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলা হিসেবে সমাদৃত।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রচলিত বলি খেলার প্রবর্তক আবদুল জব্বার নামের এক সওদাগর। তাঁর নামানুসারে বর্তমানে এই খেলাকে ‘জব্বারের বলি খেলা’ বলা হয়। আবদুল জব্বার ছিলেন চট্টগ্রাম নগরীর বদরপাতি এলাকার তৎকালীন প্রভাবশালী সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ১৯০৯ সালে খেলার সূচনা করেন। তার মৃত্যুর পর এটি ‘জব্বারের বলি খেলা’ নামে পরিচিতি পায়। বলি খেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি ময়দানের আশেপাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়।
বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব, শক্তিমত্তা প্রদর্শন ও মনোবল বাড়ানোর জন্য আবদুল জব্বার সওদাগর কুস্তি প্রতিযোগিতার প্রবর্তন করেন। ১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ এ খেলার সূচনা করেন। এর জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সে সময় বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও মায়ানমারের আরাকান অঞ্চল থেকেও বলিরা এ খেলায় অংশ নিতেন।
কর্ণফুলী ও শঙ্খ নদীর মধ্যবর্তী স্থানের উনিশটি গ্রামে মল্ল উপাধিধারী মানুষের বসবাস ছিল। প্রচণ্ড দৈহিক শক্তির অধিকারী মল্লরা সুঠামদেহী সাহসী পুরুষ। তাদের বংশানুক্রমিক পেশা হচ্ছে শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন। এ মল্লবীররাই ছিলেন বলি খেলার প্রধান আকর্ষণ ও মূল প্রেরণা।
এখন পেশাদার বলির অভাবে এ খেলার আকর্ষণ কমছে। তবে জব্বারের বলি খেলার মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে মেলা। তাই অনেকে একে বৈশাখী মেলা হিসেবেই চেনে। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে একে চিহ্নিত করা হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে ৩ দিনের আনুষ্ঠানিক মেলা বসার কথা থাকলেও পাঁচ-ছয় দিনের মেলা বসে এলাকা ঘিরে। ২৪ এপ্রিল জাব্বারের বলি খেলার ১১৩ তম আসর বসেছিল চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে। বলি শব্দটি এসেছে বলবান থেকে। মুঘল আমলে বিত্তবান এবং ভূস্বামীরা নিরাপত্তা ও আভিজাত্য প্রদর্শনের জন্য বেতনভোগী নামিদামি কুস্তিগির পুষতেন। তাঁদের দৈহিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হতো বলি খেলার মাধ্যমে। যে বলবান কুস্তিতে বিজয়ী হতেন তাঁকে বলি বলা হতো। বলি খেলার স্বর্ণযুগ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল পর্যন্ত। সে সময় চট্টগ্রামের সর্বত্র চৈত্র থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত বলি খেলার আয়োজন করা হতো। জব্বারের বলি খেলার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে, যেমন- কক্সবাজারে ডিসি সাহেবের বলি খেলা, সাতকানিয়ায় মক্কার বলি খেলা, আনোয়ারায় সরকারের বলি খেলা, পটিয়ার আঞ্জুমিয়ার বলি খেলা, বোয়ালখালীর বাইজ্ঞেরো বলিখেলা, রাউজানে দোস্ত মোহাম্মদের বলি খেলা, হাটহাজারীতে চুরখাঁর বলি খেলা, চান্দগাঁওতে মৌলভীর বলি খেলা এখনো কোনভাবে চলমান।
জব্বারের বলি খেলায় গতবছর বিজয়ী হয়েছিলেন চকরিয়ার তরিকুল ইসলাম জীবন। কুমিল্লা জেলার শাহজালাল বলিকে হারিয়ে শিরোপা জেতেন তরিকুল। শক্তিশালী প্রতিযোগী শাহজালালের সঙ্গে সেদিন ১৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ড লড়াই করেছিলেন জীবন বলি।
আজকের বলি খেলায় শাহাজালাল কে হারিয়ে শিরোপা অক্ষন্য রেখেছেন তরিকুল ইসলাম জীবন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories