মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

পূর্ণ মুক্তির পরেও হাহাকার থামেনি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামের মানুষের !

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৩৮ বার

বহুল আলোচিত তিনবিঘা করিডোর দহগ্রাম ইউনিয়ন । ইতিহাসের পাতায় এক অন্য রকম আলোচিত ইউনিয়ন। লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন বহুদিক থেকে আলাদা ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ তারপর ১৯৯২ থেকে ২০২২ দীর্ঘ সময়ের আলাদা ইতিহাস লালন করে আসছে দহগ্রাম ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।
১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু দীর্ঘ ২৩ বছর পর ভারতের অবৈধ দখল থেকে ১৯৯২ সালের ২৬শে জুন দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা বাসীর অর্ধ মুক্তি মিলে। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও দিনে বাংলাদেশ মূল ভূখন্ডের সাথে যোগাযোগ থাকলেও রাতে বন্দী থাকতে হয়েছিলো ভারতের অবৈধ দখলদারিত্বের হাতে।অর্থাৎ দিনে মুক্তি রাতে বন্দী।
২০১১ সালের ১৯শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষ পূর্ণ মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করে। রাত এবং দিনে বাংলাদেশের মূল ভুখন্ডের সাথে যোগাযোগ রাখার সুযোগ হয়। পূর্ণ মুক্তির পরেও কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু।
জানা যায়, ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষের ? কতটা স্বাধীন দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষ ? দীর্ঘ ২৩ বছর বন্দী থাকার পর শিক্ষা -চিকিৎসা, জীবন -যাত্রায় পিছিয়ে পরা বিশাল এ জনগোষ্ঠী কতটা স্বাধীন এমন এক প্রশ্নের জবাবে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বন্দী থেকে অর্ধমুক্তি তারপর পূর্ন মুক্তিতেও আমরা পরাধীন। একদিকে তিস্তা নদী আমাদের প্রতি মূহুর্তে গ্রাস করেছে । তিস্তার করালগ্রাস আমাদে ইউনিয়নকে আস্তে আস্তে ছোট করে দিচ্ছে । যদিও তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচাতে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। বিশেষ করে সিসি ব্লক তৈরীতে বড় বাজেট প্রদান করেছেন তিনি। তারপরেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারনে দ্রুত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে মহা বিপদের সম্মুখিন হতে হচ্ছে আমাদের। এছাড়া সরকারের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে দহগ্রাম ইউনিয়নবাসী।
দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষ এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজিয়েট ঘোষণা করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারনে দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কলেজিয়েট করা সম্ভব হয়নি আজো। দহগ্রাম ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘপথ পারি দিয়ে উপজেলা শহরের কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতে হয়। যা ছাত্র/ছাত্রীদের শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে পরার মূল কারন। বিশেষ করে নারীরা এই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে অনেকের শিক্ষার যাত্রা সমাপ্তি টানতে বাধ্য হচ্ছে প্রতি বছর।
দহগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাফিউল আলম বাবলু বলেন, ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির পুরোপুরি বাস্তবায়ন আমরা আজো পাইনি। চুক্তি মতে তিনবিঘা করিডরের উপর দিয়ে ফ্লাইওভার হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি । এখনো আমাদের ভারতের তৈরি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় যা আমাদের সকলের হৃদয়ে দাগ কাটে, খুব কষ্ট লাগে।
দহগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা তৎকালীন ১৯৯২ পূর্ব দহগ্রাম সংগ্রাম কমিটির মুখপাত্র রেজানুর রহমান রেজা বলেন, দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষ আমরা, আজো পুরোপুরি স্বাধীনতা লাভ করতে পারেনি । ১৯৭৪ এর ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি কোনটাই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। এখনো, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পর দহগ্রাম ইউনিয়নের কৃষকদের ভারতীয়দের বেঁধে দেওয়া সপ্তাহে ৬০ টি গরু পারাপার করতে হয়। কিসের জন্য ? কোন অধিকারে তারা (ভারত) এমনটা করছে ? আমার জানা নেই। আমাদের কারো বোধগম্য নয়।
দহগ্রাম ইউনিয়নের নতুন হাটের কৃষক নূর আলম বলেন, নিজেদের প্রয়োজন মতো আমরা গরু বিক্রি করতে পারি না। দহগ্রাম ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি এবং গরু। কৃষি কাজে অথবা নিজেদের প্রয়োজনেই যদি গরু বিক্রি করতে ভারতের বেঁধে দেওয়া সপ্তাহে ৬০ টি গরু বিক্রি করার ব্যবস্থা হয়, তাহলে বিশাল জনগোষ্ঠীর এই চরম সমস্যায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন এগিয়ে আসছে না ? সেটা আমাদের কষ্ট দেওয়া ছাড়া আর কি ? দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষের স্বাধীনতার স্বাদে তিক্ত হাহাকার কবে থামবে সেই প্রশ্ন রয়েই গেলাে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories