শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা করছে জাপান সৌদিতে নিহত শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ দেশে পৌঁছেছে সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশির মরদেহ শিশুকে যৌন নিপীড়নের কথা স্বীকার করতেই মাদ্রাসা শিক্ষককে পেটালেন শিশুটির বাবা, ভিডিও ভাইরাল ইউরোপে ভয়াবহ গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু সংঘাতের স্থায়ী সমাধান চান পুতিন তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’-এর অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত পঞ্চগড় বোদা উপজেলায় এলজিইডি উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেড় লাখ টাকাসহ আটক কালীগঞ্জে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে থানায় নেয়ায় সময় অজ্ঞাত কাভার্ডভ্যান  চাপায় এসআইসহ নিহত-২, আহত- ২

গাজীপুরে মেয়র জাহাঙ্গীরের দল থেকে বহিষ্কার॥ দলীয় নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৩৩ বার

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ্যাড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামীলীগের দলীয় পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার খবরে শুক্রবার রাতে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আনন্দ মিছিল ও স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে মিষ্টি বিতরণ করেছে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভায় জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দলীয় সদস্য পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামীলীগের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের খবরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলেও শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এ ব্যাপারে অফিসিয়াল কোন আদেশ পাননি বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। তবে গত কাল শনিবার দুপুরে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদরে তারবাসায় ডেকে সংবাদ সম্মেলন কওে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র গভীর ষড়যন্ত্র করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভূল বুঝিয়ে আমাকে বহিস্কার করিয়েছেন। গাজীপুরের উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করেছেন। তারপরও প্রধানমন্ত্রী আমার মা, আমার রাজনৈতকি আদর্শ, তিনি যে সিন্ধান্ত দেবেন-আমি মাথা পেতে নেবো। আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের উর্দ্ধে নই। ভূল মানুষরেই হয়। আমি যদি ভূল করে থাকি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি মৃত্যুও আগ পর্যন্ত দলের জন্য কাজ করে যেতে যাই। আমার ভূলের জন্য-আমার সমর্থক বা দলীয় কোন নেতাকর্মী যেরো কোন ক্ষতি না হয় এ স্থানীয় সকল নেতাকর্মীদের প্রতি এ আহবান জানান তিনি। আমার ভূলের জন্য আমার মা আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে ফাঁসিতে ঝুলতে বলেন আমি তাই করবো। আমাকে গ্রেফতার করার প্রয়োজন নেই, শুধু বলবেন, আমি নিজেই আইনর্শৃংখলা বাহিনীর নিকট আত্বসর্ম্পন করবো বলে হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকেন।
এদিকে দলীয় পদ থেকে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বহিষ্কারের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে গাজীপুরের শহর, গাছা, পূবাইল, টঙ্গী, কাউলতিয়া, বাসনসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা।
স্থানীয় নেতারা বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিজে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। তার জবাব তিনি পেয়েছেন। কোন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলঅর পর সেটা যে গ্রহণ করার কোনো সুযোগ আওয়ামী পরিবারের নেই তা আবারো প্রমাণ হলো। মেয়র আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার মতো কথা বলেছেন। যা ইতিহাস বিকৃতির শামিল। এ বক্তব্যে গাজীপুরের আমজনতার মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।
অপরদিকে গাজীপুর শহরে আওয়ামীলীগ নেতা শামীম, বোর্ডবাজার এলাকায় মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দীপের নেতৃত্বে পৃথক আনন্দ মিছিল বের হয়।
অপরদিকে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আতশবাজি ফুটিয়ে জাহাঙ্গীর বিরোধী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উল্লাস করতে থাকে। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
অপরদিকে টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাতেই বাঁজি ফোঁটানো, মিষ্টি বিতরণ এবং আনন্দ মিছিল করেছেন।
এ ব্যাপারে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের নিয়ে মেয়রের করা বিতর্কিত মন্তব্য স্থানীয় নেতাকর্মীসহ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আঘাত লেগেছে। আমরা তার বহিষ্কারের দাবিতে আগে থেকেই আন্দোলন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলাম। কেšদ্রীয় আওয়ামীলীগ থেকে আজীবন বহিস্কারের সিদ্ধান্ত আসায় পুরো গাজীপুরবাসীসহ দেশ আজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে যতদিন পর্যন্ত আইনি ব্যবস্থা নেয়া না হবে, ততদিন পর্যন্ত দেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তরক্ষণ বন্ধ হবে না।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে গোপনে ধারণ করা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বীর মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে এবং জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।
এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
এ ঘটনায় গাজীপুরের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে গাজীপুরে মেয়র-সমর্থকদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে কয়েক দফা। চলে জ¦ালাও পোড়াও ভাংচুর। এরপর ৩ অক্টোবর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। তিনি জবাবও দেন। এরপর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ‘সুপার এডিট’ করা হয়েছে বলে বারবার দাবি করেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।
এদিকে ওই ভিডিওর জের ধরে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের উপযুক্ত শাস্তির দাবীতে অনড় থাকেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। গাজীপুরে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। ভিডিও প্রকাশে সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে বলে স্থানীয় কিছু আওয়ামীলীগের নেতার ধারণা করেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories