বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু: শিক্ষামন্ত্রী গাজীপুরে কলকারখানায় স্বস্তি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, প্রজ্ঞাপন জারি বগুড়ার নন্দীগ্রামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারে দখলদার ও কাঠ-বালু পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১০ বার

দীর্ঘদিনের জবরদখল, পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের ক্ষত কাটিয়ে আবারও সবুজে ফিরতে শুরু করেছে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের মেহেরঘোনা রেঞ্জের বনভূমি। হারিয়ে যাওয়া সবুজ বন ফিরিয়ে আনা, বনভূমির অবৈধ দখল রোধ, কাঠ ও বালু পাচার নিয়ন্ত্রণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলতে কাজ করছে বন বিভাগ। এ লক্ষ্যে বন বিভাগ ও স্থানীয় অংশীজনদের সহযোগিতায় রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প।
সম্প্রতি মেহেরঘোনা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, একসময় উজাড় ও দখলের ঝুঁকিতে থাকা বনভূমির বিভিন্ন অংশে ফিরেছে সবুজের সমারোহ। অবৈধ জবরদখল উচ্ছেদে বন বিভাগের অভিযান এবং নতুন করে বনায়নের উদ্যোগে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বনাঞ্চল। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণেও নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি আব্দুল কাদির বলেন, বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা যোগদানের পর মেহেরঘোনা বনের পরিবেশে অনেকটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগের তুলনায় জবরদখল ও গাছ কাটার প্রবণতা কমেছে। বন রক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতা বেড়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বনাঞ্চল আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মেহেরঘোনা রেঞ্জে পিওআর ও ইডিওআর ধারায় মোট ৩৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয়জনকে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ১৩টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। গত এক বছরে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩৫০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করেছে বন বিভাগ।
তবে বনভূমি রক্ষা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখেও পড়তে হচ্ছে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। অভিযোগ রয়েছে, বনভূমি জবরদখল, কাঠ পাচার, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটা বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বনকর্মীরা হুমকি ও হামলার শিকার হয়েছেন। প্রভাবশালী মহলের বাধা ও নানা চাপের মধ্যেও বনাঞ্চল রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয় সমাজসেবক মহিউদ্দিন বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি বন বিভাগের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে তাদের নামে বদনাম ও নেতিবাচক কথা – বার্তা ছড়ায়, এতে মানুষের মাঝে একটি হিউমার যেমন ছড়ায়, তেমনি বন কর্মীদের মনোবল ও কাজে বাঁধা সৃষ্টি হয়।
মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘মেহেরঘোনা দীর্ঘদিন ধরেই বনভূমি জবরদখলপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে একশ্রেণির দুর্বৃত্ত বনভূমি জবরদখল, পাহাড় কাটা, কাঠ ও বালু পাচারসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করে আসছে।
তিনি বলেন, বন বিভাগ এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগের বিরুদ্ধে অপপ্রচারও চালানো হয়। এসব প্রতিকূলতা ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বনভূমি রক্ষায় কাজ করতে হচ্ছে আমাদের।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বনভূমি রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, নিয়মিত নজরদারি, সামাজিক বনায়ন সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করাও জরুরি। এসব উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে মেহেরঘোনার বনাঞ্চল আরও সবুজ হয়ে উঠবে এবং বন্যপ্রাণীর জন্য নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories