মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কনসার্ট বন্ধের রীতি আগে থেকেই ছিল: সংগীতশিল্পী ন্যান্সি রাজধানীর পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে: এলজিআরডি মন্ত্রী সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট চালুর উদ্যোগ ভূমিকে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন প্রথমবারের মতো আরব আমিরাতে নাতে রাসুল (সা.) প্রতিযোগিতা বাংলাদেশীর মালয়েশিয়ায় অনৈতিক কর্মকান্ড, ১২ বাংলাদেশিসহ আটক ৫৭ ২৮ বাংলাদেশিসহ ২৫৫ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া

ভূমিকে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ভূমির সুরক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ভূমিকে পরিবেশগত ব্যয় হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক ও উন্নয়নগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (ইউএনসিসিডি কপ-১৭) ফাইন্যান্স ডে উপলক্ষ্যে ‘স্বাস্থ্যকর ভূমি ও খরা সহনশীলতায় উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থা’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভূমি অবক্ষয় কমাতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মাটির উর্বরতা, বনভূমি, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ি ভূমিক্ষয়, উপকূলীয় লবণাক্ততা এবং নদীভাঙনের মতো বিষয়গুলোকে জাতীয় পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও জলবায়ু-সহনশীল খাতে রূপান্তর করছে এবং কৃষকদের জন্য ঋণ ও কৃষিঋণ-সহায়তা সম্প্রসারণ করছে।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গ্যারান্টি, প্রাথমিক ক্ষতির মূলধন ও মিশ্র অর্থায়ন ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে জলবায়ু ও ভূমি সহনশীলতায় দেশীয় অর্থায়ন করা হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দিকের এই তহবিলে এ পর্যন্ত ৪৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সংস্থান করা হয়েছে।
তিনি জানান, এই অর্থায়নের সহায়তায় ১২টি নতুন প্রতিকূলতা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে ১৯ হাজার ৪০০ টনের বেশি খরা ও লবণাক্ততা-সহনশীল বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান চাহিদা তহবিলের বার্ষিক বরাদ্দকে ছাড়িয়ে গেছে।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকে জাতীয় উদ্যোগের বিকল্প হিসেবে নয়, বিদ্যমান অর্থায়ন-ঘাটতি পূরণের সহায়ক হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি ঋণের বিনিময়ে প্রকৃতি ও জলবায়ু সংরক্ষণ, ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য সবুজ বন্ড প্রদানের মতো উদ্ভাবনী ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের অর্থায়নের মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির নিয়ন্ত্রিত পুনর্ভরণ, কৃষি, বনায়ন, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এবং ২৫ কোটি চারা রোপণের জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা সম্ভব।
পরিবেশ বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উজানের পানিপ্রবাহের পরিবর্তন বাংলাদেশের মতো বদ্বীপ রাষ্ট্রে লবণাক্ততা ও খরার ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণে অভিন্ন নদী অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন জোরদার এবং পানি-সংকট ও ভূমি অবক্ষয়সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সহযোগিতা দিতে এবং গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আমরা এমন অঙ্গীকার চাই, যা সুনির্দিষ্ট, অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং সময়সীমাবদ্ধ যাতে ভূমি অর্থায়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রান্তিক অবস্থান থেকে কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খুরেলসুখ উখানা ইউএনসিসিডি কপ-১৭এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কপ-১৭ -এর সভাপতি বাতসেতসেগ বাতমুনখ, জাতিসংঘের উপমহাসচিব আমিনা জে. মোহাম্মদ এবং ইউএনসিসিডি’র নির্বাহী সচিব ইয়াসমিন ফুয়াদসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের প্রধানগণ অংশ নেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories