রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) কৃষিবিদ মোঃ হাসান জাফির তুহিন।
শনিবার পরিদর্শন কালে তিনি গোদাগাড়ী, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল, কৃষিজমি, বিএমডিএ‘র ডাবল লিফটিং সেচ প্রকল্প, পুণর্ভবা নদীতে স্থাপিত সেচ প্রকল্প এবং মহানন্দা নদীর প্রস্তাবিত ডাবল লিফটিং প্রকল্পের ইনটেক পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। পরে গোমস্তাপুর জোন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রিজয়ন অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এসময় বিএমডিএ‘র চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মোঃ হাসান জাফির তুহিন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে টেকসই রাখতে পানির সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পানির অপচয় রোধ এবং কৃষকের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান।
তিনি বলেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে পানির সুষ্ঠু, পরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সেচ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম, অপচয় বা কৃষক হয়রানি বরদাশত করা হবে না। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে সেচনির্ভর। তাই কৃষকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সেচ অবকাঠামোর উন্নয়ন, খাল ও জলাশয়ের কার্যকর ব্যবহার এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও অপচয় রোধে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। এসময় সকল স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কথা শুনেন এবং দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন।
চেয়ারম্যান আরো বলেন, বিএমডিএ‘র প্রতিটি প্রকল্পের সুফল যেন সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। কৃষকবান্ধব, পরিবেশ সম্মত ও টেকসই সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষকবান্ধব ও টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিএমডিএ‘র সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শন কালে বিএমডিএ‘ র নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন “চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে বিএমডিএ‘র সেচ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। কৃষক যেন সময়মতো সেচ সুবিধা পান এবং প্রকল্পের সুফল সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসম্পদ সংরক্ষণ ও কৃষির উন্নয়নে বিএমডিএ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।”
তিনি বলেন, “সেচ প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষক জালাল বলেন, বিএমডিএ‘র সেচের কারণে আমাদের এলাকার কৃষিকাজ অনেক সহজ হয়েছে। সময়মতো পানি পাওয়া গেলে আমন, বোরোসহ বিভিন্ন ফসল ভালোভাবে আবাদ করা সম্ভব হয়। চেয়ারম্যান সরেজমিনে এসে আমাদের সমস্যাগুলো দেখেছেন, এতে আমরা আশাবাদী।
গোমস্তাপুরের শামিম আহম্মেদ কৃষক বলেন, “বরেন্দ্র এলাকায় পানির সংকটের কারণে কৃষকদের অনেক চিন্তায় থাকতে হয়। সেচ প্রকল্পগুলো ঠিকভাবে চালু থাকলে আমাদের উৎপাদন বাড়ে এবং খরচও কমে। আমরা চাই, খাল ও নদীর পানি ব্যবহার করে সেচ সুবিধা আরও বাড়ানো হোক।
শাহাজাহান মিয়া স্থানীয় কৃষক বলেন, “বিএমডিএর সেচ সুবিধা আমাদের মতো কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেচের পানি নিয়মিত পাওয়া গেলে জমি অনাবাদি থাকে না। নতুন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এলাকার আরও অনেক কৃষক উপকৃত হবেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএ‘র নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম, বিএমডিএ‘র পরিচালনা বোর্ড সদস্য শফিকুল আলম সমাপ্ত সহ রিজিয়ন ও জোনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply