মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

মৃণাল চৌধুরী সৈকত এর একগুচ্ছ কবিতা

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ০ বার

কৃষ্ণ গহ্বরে মৌদল
মৃণাল চৌধুরী সৈকত

ভালোবাসতে চাই অর্হনিশি
ধ্যানে জ্ঞানে স্বর্গ নরক মর্ত্য পাতাল,
হৃদয়ের অভ্যন্তরে যতন করে রাখতে চাই
অতীত বর্তমান ভবিষ্যত জীবনের কর্মযজ্ঞ।
কিন্তু, অনাকাঙ্ক্ষিত সেই আগন্তুককে
চিনতে বা জানতে পারিনি কখনো,
এ আমার চরম ব্যর্থতা বৈকি !
দলবেঁধে ফুলে ফলে ভ্রমরের আনাগোনা
সময় ফুরিয়ে গেলে নীরবতায় কাটে সময়,
যে বাসা বাঁধে নিস্পাপ ভ্রমরের দল
সে বাসা ভেঙ্গে দেয় সমাজের লোক-
তবু বেঁচে থাকার অমূলক স্বপ্ন আকেঁ
বছর পেরুতেই গুনগুন গুঞ্জন মৌদলে।
আর আমার ক্ষেত্রে অষ্টকের সপ্তম স্বর
করুন ভাবে বেজে উঠে ভোরের আকাশে,
অত:পর, দিনভর প্রবহমান কাঙ্ক্ষিত জীবনে
নানাবিধ মনস্তাত্ত্বিক অফুন্ত চাপ-
সমাজে মায়া মমতা প্রেমহীন
গড়ে উঠা প্রকৃতির বিষন্নতা,
কিটপতঙ্গের উশৃঙ্খলতা-
আর যানবাহনের যাতাকলে
নিজেকে হারিয়ে ফেলি কৃষ্ণ গহ্বরে।
তবু, আমি ভালোবাসতে চাই
চাই শতসহস্র ভালোবাসার মাঝে
নিজেকে বাচিঁয়ে রাখতে যুগযুগান্তর।

আমি একজন নারী
মৃনাল চৌধুরী সৈকত

আমি একজন নারী
একজন গর্ভধারী মা কিংবা বোন
একজন স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা,
আমার শরীরের বিশেষ অংশ
স্তন, নাভী, যোনী জুড়ে
তোমাদের জন্ম রহস্য
লুকিয়ে আছে পুরুষ জীবন,
লুকিয়ে আছে নারীর অস্তিত্ব
লুকিয়ে আছে তোমাদের সন্তানদের
জন্ম ইতিহাস।
তারপরও যদি আমায় নগ্ন করে
দূর্গন্ধময় সমাজের খোলা বাজারে
রহস্য উম্মোচন করতে চাও-
তবে রাস্ট্র আইন সমাজ ব্যবস্থা
তোমাদের ক্ষমা করলেও
ইশ^র ক্ষমা করবে না জেনে রেখো।
আমায় নগ্ন করে রহস্য উম্মোচনের চেষ্টা
আর নিস্পাপ দেহে কলঙ্ক লেপন
এ তোমাদের ক্ষণিকের লালসা পূরণ বটে।
অত:পর, আমাকে ভালোবেসে
সম্ভোধন করোনা কখনো
মা, বোন কিংবা প্রিয়তমা বলে।
তোমাদের অভিশপ্ত ভালোবাসার
মা ডাক শোনে
আমার দম বন্ধ হয়ে আসে,
বোন শব্দটি আমাকে লজ্জা দেয়
মেয়ে হিসেবে ঘৃনায় মুখ দেখাতে পারিনা
আর স্ত্রী বা প্রেমিকা হয়ে বেচে থাকা
ঔজ্জাস্কও আমার জন্যে।
অত:পর পুরুষ, তোমাদের এ নিলজ্জতায়
আমার মৃত্যুই শ্রেয় এ ভূমন্ডলে।

আক্ষরিক প্রেম
মৃণাল চৌধুরী সৈকত

তোমার ওই কেশকালো বহুমুখী উড়ন্ত চুলগুলো
আমার অগোছালো শয়ন শয্যায় ছড়িয়ে দাও,
আমি তোমায় সর্বাঙ্গে রজনীগন্ধার পাপড়ী ছড়িয়ে
অন্ধকারাছন্ন হৃদয়কে আলোকিত করবো, কথা দিলাম।
তোমার সু-সজ্জিত দেহের আরাধ্য দেবতাকে জানিনে
ততাপি অনেকটা দুঃসাহসে করে বলতে পারি
আমার হৃদয় গহ্বীনে দীর্ঘকালের জমানো প্রেম,
অফুন্ত অক্ষত ভালোবাসা, সে হয়ত তোমার জন্য।
তোমার দুরন্ত দু-চোখের আক্ষরিক মায়াবীনী চাহনী
আর, সুঠাম দেহের অতৃপ্ত-ক্ষুধার্থ অঙ্গ-ভঙ্গিমায়
আমি সত্যি শিহরিত, পুলকিত আমার হৃদয়
ঠিক যেনো বশিকরণ মন্ত্রে দীক্ষিত এক আগন্তুক।
সকালের সূর্যোদয়লগ্নে-বাড়ির পূর্বাংশে পুকুর ঘাটে
ভোরের হীমেল হাওয়ায় তোমার অনাকাঙ্খিত উপস্থিতি,
জলের উপর সূর্য্যরশ্নির কিরণচ্ছটায় মিলেমিশে একাকার
এ যেনো ফুলবাগানে জলমলে এক পরীর পদচারণা বটে।
আমি সেই পরীর মনোমুগ্ধকর অসাধারণ পদচারনার
আজীবন দর্শক হতে চাই, ঘরে বা বাইরে হৃদয়াঙ্গমে।
দেবে কি আমায়, ওই কেশকালো উড়ন্ত চুলগুলোর
সুগন্ধ ছড়িয়ে, আক্ষরিক প্রেম-ভালোবাসার দাম ?

নিরাপদে বাঁচতে চাই
মৃণাল চৌধুরী সৈকত

চার দেয়ালে বন্দি নয়তো
এই জীবনের ডানা,
খোলা আকাশে উড়তে চায়
সহজ সরল খনা।
কিশোরী চোখে স্বপ্ন আঁকে
নির্ভয়ে বেঁচে থাকার,
বুকের ভেতর স্বপ্ন অনেক
ইচ্ছে আকাশ ছোঁয়ার।
পথের ধারে শঙ্কা কেন
ছায়া হয়ে রয় ?
কিশোরীর এই মনে কেন
অজানা এক ভয় ?
নিরাপদ হোক প্রতিটি প্রান্তর,
প্রতিটি সবুজ মাঠ,
রোদ-বৃষ্টির আলোয় যেন
কাটে নাকো রাত।
বইয়ের পাতায় তারার আলো,
ফুটুক নতুন ফুল,
কেউ যেন নাহি পারে
করতে কোনো ভুল।
সুরক্ষিত এই ধরায় মোদের
ফুটুক মুখে হাসি,
এই পৃথিবীর বুকজুড়ে তাই
হোক ভালো বাসাবাসি।

কবি’র ক্রন্দন ধ্বনি
মৃণাল চৌধুরী সৈকত

বক্ষস্থল ভিঁজেছে জলে
কবির ক্রন্দনে-
কবির দুঃখ বুঝেনা কেউ
তব এ তল্লাটে ।
মানুষ পুঁড়ছে ভুলে
কালের অগ্নিতে,
ধ্বংস হচ্ছে হৃদয়-
হৃদয়ের খুনে।
হৃদয়ের স্পন্দন
যেমন শিকলের মত-
ঠিক তেমনি,
প্রকৃতির উদারতা বাড়ে,
কবির পেছন জীবনে ।
হাজারো বেদনা বাড়ে
ভেতরে ভেতরে,
হৃদয়ে কুসুম ভাসে
নিশি জাগরনে।
কবি আজ একা-
নীরব নিঃস্তব্দ যেমন
অমবস্যার রাত,
বিধাতার সৃষ্টি যেমন
বদ্ধ দু-কপাট ।
হয়ত তাই-
মাত্রা বর্ত্তে বলে লোকে
কিশোর কবিকে,
ছন্দ ছুট ছোট প্রাণ
পিতার একমাএ সন্তান
শরীর ভেঙ্গেছে তার
পিতার শোকে।
পিতার অকাল মৃত্যু
যেন কবি’র ক্রন্দন,
নীরব নিঃস্তব্দ যেন
কবি’র জীবন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories