মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুলিশ প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল,ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া তার জন্য সম্মানের। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের শুভেচ্ছা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বৈঠকে দুই পক্ষই মত দেয়, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দিতে হবে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণের জন্য পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
এর আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ন্যাশনাল নারকোটিক্স কন্ট্রোল বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ফলাফলও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। ওই বৈঠকে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকটি কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়।
বিশেষ করে পুলিশ প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান মালয়েশিয়ার সঙ্গে বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একইভাবে মালয়েশিয়াও তাদের নিজস্ব দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে পাসপোর্ট সেবা আরও কার্যকর ও দ্রুত করার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাবও পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করা হচ্ছে। এসব এমওইউ ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক এই সফর ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে উভয় দেশ নিজেদের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে পারবে।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আরও সংগঠিত, বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
Leave a Reply