শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফেনীর মহুয়া-কহুয়া সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বাহিনী সমন্বিত ভাবে কাজ করবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে কমিশন জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এমপি পদ থেকে মিষ্টির পদত্যাগ কক্সবাজারে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৪৭ বস্তা সার জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁর সাপাহারে হাফেজিয়া মাদ্রাসা’ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ, পরিচালক গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত

ঘর থেকে বৃদ্ধ বাবার মরদেহ উদ্ধার, ছেলে পুলিশের হেফাজতে

পিরোজপুর প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৬ বার

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘর থেকে পুলিন মিস্ত্রি (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে পবিত্র মিস্ত্রিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচশতকুরা গ্রামের একটি বসতঘর থেকে পুলিন মিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা পুলিন মিস্ত্রির ঘরে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। একই ঘরে তাঁর ছেলে পবিত্র মিস্ত্রিকেও অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা পবিত্রকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পুলিন মিস্ত্রির মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে জানান।
ঘটনার পর পবিত্র মিস্ত্রি দাবি করেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। তাঁর বাবার কাছে থাকা জিনিসপত্র না দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে এবং পবিত্রকে অন্য একটি ঘরে আটকে রাখে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে তাঁর এ দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিন মিস্ত্রির স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি পুনরায় বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে ছেলে পবিত্র মিস্ত্রির সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। এছাড়া পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ কথিত ডাকাতির দাবির পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিন মিস্ত্রির দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানা গেছে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী ও মঠবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন ঘটনাটি তদন্ত করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর পবিত্র মিস্ত্রিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, নিহতের ছেলে দাবি করেছেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে চেতনানাশক স্প্রে করে। পরে তাঁর বাবার কাছে থাকা জিনিসপত্র না দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে এবং পবিত্রকে অন্য একটি ঘরে আটকে রাখে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিহতের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে ছেলের বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানায়, পুলিন মিস্ত্রির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories