শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গ্রিন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে গ্রিন বিজনেস স্কুল (জিবিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল নীতি গ্রহণই যথেষ্ট নয়। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি এবং গবেষণানির্ভর উন্নয়নে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানো সময়ের দাবি।
গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, “টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরিতে উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং গবেষণা-সংস্কৃতির বিকাশের কোনো বিকল্প নেই।”
সেমিনারের বিশেষ অতিথি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক বাস্তবতা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে টিকে থাকতে শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের মধ্যে একটি কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
গ্রিন বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক আজিজের সভাপতিত্বে সেমিনারে শিক্ষার্থীরা বাজেট ২০২৬-২৭-এর ওপর গবেষণাভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন। গ্রিন বিজনেস স্কুলের চেয়ারপার্সন ড. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি দেশের উন্নয়ন দর্শন ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন।
সেমিনারের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা বাজেটের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে অতিথিদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এই ধরনের অ্যাকাডেমিক সংলাপ শিক্ষার্থীদের নীতি বিশ্লেষণ ও গবেষণামুখী দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply