ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক শিরিনা আক্তারকে একটি হানিট্র্যাপ (ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া) মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নগরীর আলমগীর মুনসুর মেমোরিয়াল (মিন্টু) কলেজ এলাকা থেকে তাকে আরও একজনের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ত্রিশালের ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা শামীমকে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় গত ২৯ জুন একটি মামলা (নং-৮২) দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাফায়াত হোসেন ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
এ নিয়ে ওই মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে ঘটনায় জড়িত অপর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিরিনা আক্তার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করতেন। নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই চক্রের কাজ।
ভুক্তভোগী বালিপাড়া ইউনিয়নের সামাল মেম্বারের ছেলে শামীম অভিযোগ করেন, শিরিনা ও তার সহযোগী ঝর্ণা তাকে ধর্ষণচেষ্টার মতো একটি স্পর্শকাতর মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এছাড়া স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এর আগে ত্রিশালের বালিপাড়া থেকে শফিকুল ইসলামের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে অন্তরকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনাতেও শিরিনা ও তার সহযোগীদের নাম আলোচনায় এসেছিল। তবে অপহরণের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই গ্রেপ্তার নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ত্রিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীতে অভিযুক্ত শিরিনা আক্তারের রাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শিত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ত্রিশাল বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানান, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দল বদ্ধপরিকর। দলের কোনো নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি সংঘবদ্ধ হানিট্র্যাপ চক্র হিসেবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এজাহারভুক্ত আসামি শিরিনা আক্তারসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply