ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দ্বীন ইসলাম (২৬) নামে এক তরুণ সাংবাদিককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। উপজেলার শিমরাইল গ্রামের নিজ বাড়ির কাছ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। নিহত দ্বীন ইসলাম ওই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
জানা গেছে, দ্বীন ইসলাম তার অনলাইন পেজের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে তিনি ছাড় দিতেন না। এই সাহসিকতার কারণে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী মহলের সাথে তার চরম বিরোধ তৈরি হয়। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি কিছু দিন ধরে কুমিল্লা শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস করছিলেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন, আর সেখানেই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
এ ঘটনার পর দেশজুড়ে বিভিন্ন সংগঠন ও সাংবাদিক মহলে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে :
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। বাংলাদেশ সাংবাদিক ফোরাম, জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটি। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন,জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কবি আতিক আজিজ, সংগঠনের মহাসচিব ও বাংলাদেশ সাংবাদিক ফোরামের সহ-সভাপতি কবি মৃণাল চৌধুরী সৈকত এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে হত্যাকারীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবী করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “এভাবে একজন সাংবাদিককে পিটিয়ে মেরে ফেলা গোটা দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। দ্বীন ইসলাম মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে শত্রু তৈরি করেছিলেন। যারা তার পূর্ব শত্রু ছিল, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করলেই প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। সংগঠনগুলোর -এর পক্ষ থেকে অবিলম্বে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের পর চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষ এই মেধাবী তরুণের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত এবং দ্রুত বিচারের দাবী উঠেছে।
Leave a Reply