ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে গঙ্গার মাঝনদীতে নৌকায় ইফতার আয়োজন এবং সেখানে চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার অভিযোগে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইফতার শেষে খাবারের অবশিষ্টাংশ গঙ্গার পানিতে ফেলে তারা গঙ্গার পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর ভিত্তিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, নৌকায় বসে নন-ভেজ চিকেন বিরিয়ানি খাওয়া এবং তার অবশিষ্টাংশ গঙ্গায় ফেলে দেয়া হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে দাবি ওঠে। ভাইরাল ভিডিওতে সূর্যাস্তের সময় কয়েকজনকে নৌকায় বসে খাবার খেতে দেখা যায়।
এই ঘটনায় বিজেপির যুব শাখার এক নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে কোতওয়ালি থানার পুলিশ মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, গঙ্গা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। সেখানে নৌকায় বসে চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার পর অবশিষ্টাংশ নদীতে ফেলে দেয়ার মাধ্যমে গঙ্গার পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ধারা এবং দূষণ প্রতিরোধ আইনে মামলা করে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও সরকারি নির্দেশ অমান্যের অভিযোগও আনা হয়েছে।
কোতওয়ালি অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় প্রতাপ সিং জানান, ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকেই ঘটনার সূত্র পাওয়া যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণরা নৌযানে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা জ্যাকেট পরে ছিল। তারা নৌকার মাঝখানে একটি টেবিলে খাবার রেখে দাঁড়িয়ে খাচ্ছিল। শরবতসহ অন্যান্য খাবারের সঙ্গে চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার পর হাড়গোড়সহ অবশিষ্টাংশ নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপরই পুলিশ দুটি দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গঙ্গা নদী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে পূজা ও স্নান করতে আসেন। তাই এই ঘটনাকে ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতি ও পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গঙ্গার বুকে আমিষ খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ কিনা— তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ভারতে কেন্দ্রীয় কোনও আইন নেই, তবে কিছু রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বারাণসী একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হওয়ায় সেখানে গঙ্গায় আমিষ খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর।
গঙ্গা যে রাজ্যগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, তার মধ্যে উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশে এ ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে এমন নিষেধাজ্ঞা নেই। যদিও পানি দূষণ প্রতিরোধ আইন সব রাজ্যেই কার্যকর আছে।
Leave a Reply