রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন, ৩ নার্সকে বদলি স্বাধীন দেশে কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না : রাষ্ট্রপতি বিইউপি’র পশ্চিম ক্যাম্পাসে নবনির্মিত তিনটি ভবন উদ্বোধন সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠছে পে স্কেল, বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সাত নির্দেশনা সেপ্টেম্বর থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া নাফ নদীতে বিজিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ ৩ মাদক পাচারকারী আটক রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ডিএমপিতে রদবদল, নতুন দায়িত্বে ৮ ডিসি-এডিসি

আগের মতো নেই বাংলাদেশিদের ভিড়, কলকাতার নিউ মার্কেটে ব্যবসায়ীদের হতাশা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪০ বার

ঈদকে সামনে রেখে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেটে এখন কেনাকাটার ব্যস্ততা। তবে আগের মতো বাংলাদেশি ক্রেতাদের ভিড় এবার চোখে পড়ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশিরভাগ বাংলাদেশি চিকিৎসা ভিসায় কলকাতায় এলেও তাদের বড় অংশের অর্থ খরচ হচ্ছে চিকিৎসায়। ফলে ঈদের বাজারে বাংলাদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি আগের তুলনায় কম। তবুও শেষ মুহূর্তে অনেকে চিকিৎসার ফাঁকে কিছু কেনাকাটা করে নিচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এবার ঈদের কেনাকাটায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। চিকিৎসা ভিসায় যারা কলকাতায় এসেছেন, তারাই কিছুটা কেনাকাটা করেছেন। তবে তাদের বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় হয়েছে চিকিৎসাতে।
তবে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী। তাদের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার আসার পর দুই দেশের সহযোগিতায় দ্রুত ভ্রমণ ভিসার জটিলতা কাটবে। যদিও চিকিৎসার পাশাপাশি অনেক বাংলাদেশি শেষ মুহূর্তে কিছু কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে আগের তুলনায় শহরে বাংলাদেশিদের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
গত দুই বছর বাদ দিলে একসময় ঈদের আগে বাংলাদেশি ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকতো কলকাতার নিউ মার্কেটে। কিন্তু চলতি বছর সেই চেনা ভিড় নেই। ব্যবসায়ীদের কথায়, বাজার খুব ভালোও নয়, আবার খুব খারাপও নয়— মোটামুটি চলছে। শেষ দিকে কিছুটা ভিড় বেড়েছে, আর সেটা মূলত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতা এবং সীমিত সংখ্যক বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে।
নিউ মার্কেটের একটি নামী থ্রিপিসের দোকানের ম্যানেজার চুনরীলাল বলেন, গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশি ক্রেতা কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে তারা বেশিরভাগই চিকিৎসা ভিসায় এসেছেন। চিকিৎসার পর যা থাকে, তা দিয়েই কিছু কেনাকাটা করছেন। তাই আগের মতো বেচাকেনা হয়নি। তার মতে, দ্রুত ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়া জরুরি। এজন্য ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সরকারকেই আন্তরিক হতে হবে। তিনি জানান, অনেক বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসা চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন। ভিসা চালু হলে দুই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, বাজার মোটামুটি চলছে। তবে বাংলাদেশি ক্রেতা না এলে নিউ মার্কেটের বেচাকেনা তেমন বাড়ে না। কারণ পর্যটকদের কাছে কেনাকাটার জন্য এটিই প্রধান জায়গা। ভিসা বন্ধ থাকলে মানুষ আসবে কীভাবে— এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
নিউ মার্কেটের কিছু দোকানে বাংলাদেশি ক্রেতা দেখা গেলেও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। ফুটপাতের ব্যবসায়ী বিকাশ সিং বলেন, তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্রেতাই বাংলাদেশি। তারা না থাকায় ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে হোটেল ব্যবসায়ীদের মতে, আগের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও কাজের গতি খুব বেশি বাড়েনি। গত দুই বছরে বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রায় দেখা যায়নি। তবে ধীরে ধীরে সেই স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে।
পেট্রাপোল–বেনাপোল ইমিগ্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ যাত্রী এই সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করছেন। তাদের বেশিরভাগই চিকিৎসা ভিসাধারী। ভ্রমণ ভিসায় যাত্রী সংখ্যা এখনও খুবই কম।
তবে চিকিৎসার পাশাপাশি অনেকেই দেশে ফেরার আগে ঈদের কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন। খুলনা থেকে আসা সেলিম বলেন, ঈদের আগে দেশে ফিরবেন। তাই খালি হাতে না গিয়ে কিছু কেনাকাটা করছেন। মারকুইস স্ট্রিটে থাকা বাংলাদেশি জুয়েল জানান, তার মায়ের চিকিৎসা শেষ হয়েছে। এখন তিনি সুস্থ। দেশে ফেরার আগে পরিবারের আবদার মেটাতে কিছু কেনাকাটা করছেন।
এদিকে নিউ মার্কেটে এখন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে। কেনাকাটার ফাঁকে অনেকে নিউ মার্কেটের মুক্ত এলাকায় ইফতারও করছেন। চারদিকে বাহারি শরবত, কাটা ফল, ভাজা-পোড়াসহ নানা রকম ইফতারের আয়োজন। পাশের হগ মার্কেট থেকে কেউ কেউ কিনে নিচ্ছেন খেজুর ও শুকনো ফল। ইফতার শেষে নামাজ আদায় করে আবার শুরু হচ্ছে কেনাকাটা। দোকানপাটও খোলা থাকছে গভীর রাত পর্যন্ত।
সব মিলিয়ে গত দুই বছরের তুলনায় শহরে বাংলাদেশি যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, খুব শিগগিরই ভ্রমণ ভিসার জটিলতা কেটে গেলে দুই বাংলার মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে। তখন আবারও ফিরে আসবে নিউ মার্কেটের চেনা জমজমাট ঈদের বাজার।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories