রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যকার আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম ধ্বংসের পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই জানত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। এমন দাবি উঠেছে জার্মান গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে। এছাড়া ২০২২ সালে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে সিআইএর কর্মকর্তাদের বৈঠকের তথ্য সামনে আসায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও সিআইএ এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জার্মান সাময়িকী ডার স্পিগেল জানায়, ২০২২ সালের বসন্তে সিআইএর কর্মকর্তারা ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস জার্মানিতে বহনকারী পাইপলাইন ধ্বংসের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউক্রেনীয় সূত্রগুলো জার্মান এই ম্যাগাজিনটিকে জানিয়েছে, শুরুতে মার্কিন কর্মকর্তারা এ ধারণায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান এবং অভিযানের কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা অবস্থান পরিবর্তন করে এবং এ ধরনের কোনও কাজ না করতে সতর্ক করে দেয়।
তবে সিআইএর এক মুখপাত্র এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে ডার স্পিগেলকে বলেন, এগুলো ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। তবে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের প্রতিবেদন বহাল রাখার কথা জানিয়েছে ম্যাগাজিনটি।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে নাশকতার ঘটনায় বাল্টিক সাগরের তলদেশে রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যে সংযুক্ত এই আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপলাইন অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ইউক্রেন সরকার বারবার এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নাশকতার সেই ঘটনার পর কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের তৎকালীন সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে না জানিয়ে এ অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
জার্মান কর্তৃপক্ষ নাশকতা দলের সন্দেহভাজন সদস্য হিসেবে সেরহিই কুজনেতসভ নামের একজনকে শনাক্ত করেছে। তাকে ইতালি থেকে গ্রেপ্তার করে নভেম্বরের শেষদিকে জার্মানিতে প্রত্যর্পণ করা হয়। জার্মানিতেই তার বিচার হবে।
জার্মান গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ-এর সাবেক এজেন্ট এবং গোপন অভিযান ও নাশকতায় বিশেষজ্ঞ একটি ইউনিটের সদস্য ছিলেন।
‘অ্যান্ড্রোমেডা’ নামের একটি ইয়ট ভাড়া নেয়ার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তার পরিচয় উদ্ঘাটন করে কর্তৃপক্ষ। ওই ইয়টটি অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, দলটি জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে জার্মানিতে গিয়ে ইয়টটি ভাড়া নেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, সাত সদস্যের ওই দলে ডুবুরি, সহকারী, একজন ক্যাপ্টেন ও একজন চিকিৎসক ছিলেন। কুজনেতসভ সরাসরি বিস্ফোরক সংযুক্তকারী দলের সদস্য না হয়ে সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply