রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন

কুবিতে আবাসিক হলে ঢুকে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে আবাসিক হলে ঢুকে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নেতা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি জোরপূর্বক হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে একটি সিট দখল করে গত চার দিন ধরে অবস্থান করছিলেন। একই সঙ্গে তার অনুসারীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে তোলার অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মারধরের শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সৌরভ কাব্য এবং অর্থনীতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তৌফায়েল মাহমুদ নিবির। প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সৌরভ কাব্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের দিকে হলের ছাদে আতিকুর রহমানের সঙ্গে ওই দুই শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আতিকুর নিবিরকে চড় মারেন। প্রতিবাদ করলে তাকে ধাক্কা দেয়া হয়, এতে পড়ে গিয়ে তার হাতের কনুইয়ে আঘাত লাগে। এরপর সৌরভ কাব্য প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে তার নাকে সজোরে ঘুষি মারা হয়। এতে তার নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হলের অন্য শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে আতিকুরকে ধাওয়া দেন। পরে তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে একটি মেসে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তৌফায়েল মাহমুদ নিবির বলেন, আমরা কয়েকজন নিচে বসে গল্প করছিলাম। তখন আতিক এসে হলে উঠার কথা বলেন। আমি জানাই, নিয়ম মেনে প্রভোস্টের মাধ্যমে আসতে হবে। কথাটা শুনে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমার কলার ধরে চড় মারেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। সৌরভ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও নাকে-মুখে ঘুষি মারেন। এতে সৌরভের নাক ফেটে যায়।
হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনি আমার রুমে গেস্ট হিসেবে ছিলেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাবেন, তা জানা ছিল না।
এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক। এটি সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের কারণে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যেই অপরাধী হোক, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হলে সিট দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত, নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু চলবে। আতিকুরের হলে অবস্থানের বিষয়টি তার জানা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আতিকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন, ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। হাউস টিউটরদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিট বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দায়িত্ব নেয়ার পর এখনো কাউকে সিট দেয়া হয়নি। কেবল বৈধ ছাত্রত্ব রয়েছে এমন শিক্ষার্থীরাই নিয়ম মেনে হলে সিট পাবেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories