ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও রাশিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার দিকে যাওয়ায় দরপতনের দিকে যাচ্ছে স্বর্ণ।
রয়টার্স বলছে, মঙ্গলবার বিশ্ব বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০.৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৫৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৯৭২ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে রেকর্ড ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছিল এই মূল্য।
টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, ‘ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি) বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং ফেডারেল রিজার্ভ কী ভাবছে সে বিষয়ে পাওয়া ইঙ্গিতই সম্ভবত দামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।’
এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠেয় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় তিনি পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন। তিনি আরও জানান, তার বিশ্বাস তেহরান একটি চুক্তিতে যেতে আগ্রহী।
একই সময়, ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার ও বুধবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন দফার শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই আলোচনায় মূলত ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার প্রধান কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে ডলার সূচক। এতে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন বুধবার প্রকাশিত হতে যাওয়া ‘ফেডারেল রিসার্ভের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় রয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন তারা। ইলিয়া স্পিভাক বলেন, ‘স্বর্ণের ঊধ্বসীমা এখন প্রায় ৫ হাজার ১২০ ডলার।’ এটি আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, স্পট রুপার দাম ১.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৭৫.৩৩ ডলারে নেমেছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২০১৪.০৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৩ শতাংশ কমে ১৬৮৫.৪৮ ডলারে নেমে এসেছে।
Leave a Reply