ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনে মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সমঝোতা না হলে বিকল্প পথও খোলা রয়েছে। খবর বিবিসি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছেন, পরমাণু চুক্তি না হলে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার আলোচনা জোরদারের প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসে দুই নেতা বৈঠক করেন। বৈঠকের আগে থেকেই নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে এমন একটি চুক্তির দিকে এগোতে চাপ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, যাতে শুধু ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধই নয়, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও হামাস-হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনও বন্ধ হয়।
ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে তারা তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনতে প্রস্তুত। তবে অন্যান্য দাবিগুলো তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের বৈঠকের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, তার দেশ ‘অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে না।’
ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন নেতানিয়াহু, যা অন্য যেকোনও বিশ্বনেতার তুলনায় বেশি। হোয়াইট হাউসে এদিন দুই নেতার মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে। তুলনামূলকভাবে নীরব এই বৈঠকে নেতানিয়াহুকে পাশের একটি প্রবেশপথ দিয়ে আনা হয়, যাতে ক্যামেরার সামনে না পড়েন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনও করেননি।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, বৈঠকটি ‘খুব ভালো’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত কিছু হয়নি, তবে আমি জোর দিয়েছি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে, যাতে দেখা যায় চুক্তি সম্ভব কি না’। তিনি আরও বলেন, চুক্তিই তার পছন্দের পথ। তবে তা সম্ভব না হলে ‘ফলাফল কী হবে, তা দেখা যাবে।’
নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, আলোচনায় ‘চুক্তির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রয়োজন’ নিয়ে কথা হয়েছে এবং দুই নেতা ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমাতে চাপ দিয়ে আসছেন। সফরের আগে তার দপ্তর জানায়, ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, যেকোনও আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত করা এবং ইরান-সমর্থিত দেশ ও গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে পৌঁছে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানায়, তারা গত শুক্রবার ইরানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনার অগ্রগতি
নেতানিয়াহুর এই সফর এমন সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছেন, পরমাণু চুক্তি না হলে এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না করলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হতে পারে। মঙ্গলবার তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়টি তিনি ‘ভাবছেন’।
এর আগে গত মাসে ট্রাম্প ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে হামলার হুমকি দেয়ার পর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী সেখানে পাঠানো হয়। অ্যাক্সিওসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি নৌবহর সেখানে যাচ্ছে, আরেকটি যেতে পারে’। তিনি দাবি করেন, ইরান ‘খুব মরিয়া হয়ে চুক্তি করতে চায়’ এবং কূটনৈতিক সমাধান এখনও সম্ভব।
এছাড়া ফক্স বিজনেসকে ট্রাম্প বলেন, একটি ভালো চুক্তির অর্থ হবে ‘কোনও পরমাণু অস্ত্র নয়, কোনও ক্ষেপণাস্ত্র নয়।’
এদিকে বুধবার তেহরানে ইসলামী বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আগ্রাসনের মুখে আমাদের ইরান নতি স্বীকার করবে না, তবে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি’। তিনি আবারও বলেন, ইরান ‘পরমাণু অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে না’ এবং প্রয়োজনে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রস্তুত দেশটি।
Leave a Reply