সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়অযত্ন-অবহেলায় নজরুল ভাস্কর্য

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫ বার
অযত্ন-অবহেলায় নজরুল ভাস্কর্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্যের গায়ে জমে আছে পাখির বিষ্ঠা ও ধুলাবালির আস্তরণ। দেখেই বোঝা যায় কতটা অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে ভাস্কর্যটি, নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে এর সৌন্দর্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাস্কর্য চত্বরের চারপাশে কিছুটা নজরদারি থাকলেও মূল ভাস্কর্যের রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় ভাস্কর্যের গায়ে পাখির বিষ্ঠা লেগে প্রলেপের মতো স্তর তৈরি হয়েছে। এছাড়াও ধুলাবালির আস্তরণ জমে ভাস্কর্যের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ও নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মূল ভাস্কর্যের রঙও ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুর তিন দশক পর ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নামাপাড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯১৩-১৪ সালে নজরুল তার বৈচিত্র্যময় জীবনের একটি বছর কাটিয়েছেন ত্রিশালের এই নামাপাড়ায়। ২০০৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে ২৫টি বিভাগ চলমান রয়েছে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক ড. মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, কবি নজরুল ত্রিশালে এসে কিছুকাল ছিলেন, তার শৈশব স্মৃতি এখানে জড়িয়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও এই বিষয়টি জড়িত। সেই স্মৃতির প্রতীক হিসেবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করা হয়েছে কবি নজরুলের দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। তবে ভাস্কর্যটিকে ঘিরে সচেতনতার ঘাটতি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কিছুটা অভাব রয়েছে। জাতীয় কবির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এই ভাস্কর্যটি যাতে যথাযথ মর্যাদা, সুষ্ঠু সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আওতায় আসে, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
বিভিন্ন ছবি দেখে বিষয়টি নজরে আসে সাবেক শিক্ষার্থী সিফাত শাহরিয়ার প্রিয়ানের। জানতে চাইলে তিনি বলেন, নজরুল ভাস্কর্যের গায়ে এভাবে পাখির বিষ্ঠা, ময়লার আস্তর থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত। বরং এটি সুন্দর ও পরিষ্কার রাখাই দায়িত্ব। নিয়মিত তত্ত্বাবধান করলে ভাস্কর্যের উজ্জ্বলতা বাড়বে। এ ব্যাপারে নজর দেয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম বলেন, জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নজরুলের স্মৃতি ও উত্তরাধিকারের প্রতীক। সাহিত্যে, সংগ্রামে ও মানবিক চেতনায় কবি নজরুল যেমন সময়ের পর সময় প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন, তেমনি তার স্মারক হিসেবে স্থাপিত ভাস্কর্যটিও উজ্জ্বল ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুলের ভাস্কর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। কবির স্মৃতিচিহ্ন দেখে তারা যেন মুগ্ধ হন এবং নজরুলের চেতনার সঙ্গে সংযোগ অনুভব করতে পারেন, সে জন্য ভাস্কর্যটির নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ জরুরি।
ভাস্কর্যের সৌন্দর্য বর্ধন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির আহ্বায়ক এবং প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধন খাতে আলাদাভাবে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। তবুও নির্দিষ্ট সময় পর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনাসমূহ বিভিন্নভাবে সংস্কার এবং সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হয়।
সার্বিক বিষয়ে তিনি বলেন, নজরুলকে ঘিরেই আমাদের এই ক্যাম্পাস। নজরুল ভাস্কর্যের বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories