ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের দুই নেতার গুম হওয়ার ১৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। তাদের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসন, মানবাধিকার কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুম হওয়া দুই নেতার বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।
গুম হওয়া দুই ছাত্রশিবির নেতা হলেন– দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও তৎকালীন শাখা শিবিরের অর্থ সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল-মুকাদ্দাস। মুকাদ্দাস পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামের মাওলানা আব্দুল হালিমের ছেলে এবং ওয়ালীউল্লাহ ঝালকাঠি জেলার সোলজালিয়া গ্রামের মাওলানা ফজলুর রহমানের ছেলে। তারা দুজনই শাহ আজিজুর রহমান হলের (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল) দেশীয় ব্লকের ২১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা ‘ওলি ভাই ফিরবে কবে, গুম কমিশন জবাব দে’, ‘মুকাদ্দাস ভাই ফিরবে কবে, ইন্টারিম জবাব চাই’, ‘আমার ভাইকে ফেরত দাও, দিতে হবে দিয়ে দাও’, ‘মায়ের বুক খালি কেন? প্রশাসন জবাব চাই’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
এতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির সেই রাতের পর থেকে আমাদের ভাইদের আর পাওয়া যায়নি। ১৪ বছর কেটে গেলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইন্টারিম সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান ভাইদের জীবিত ফিরিয়ে দিন, আর না থাকলে তাদের লাশের সন্ধান দিন। গুমে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।
এ সময় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি জানান, ৫ আগস্টের পর ভেবেছিলাম ভাইরা ফিরে আসবে কিন্তু আজও সেই অপেক্ষা শেষ হয়নি। প্রশাসনকে বলছি, আমাদের ভাইদের অবস্থান জানাতে হবে। যারা এই গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার করে জনগণকে জানাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এভাবে নিখোঁজের শিকার না হয়।
প্রসঙ্গত, অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে আশুলিয়ার নবীনগর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাদের তুলে নেয়া হয়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি, ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই তাদের গুম করা হয়।
Leave a Reply