বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় তারল্য সংকোচনের আশঙ্কায় বিশ্বের শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম নেমে এসেছে ৮০ হাজার ডলারের নিচে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বিটকয়েনের দর ৬.৫ শতাংশের বেশি কমে দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৭১৯ ডলারে, যা আগের দিনের পতনের ধারাবাহিকতা।
এর আগে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিটকয়েন নেমে গিয়েছিল ৮১ হাজার ১০৪ ডলারে, গত বছরের ২১ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন স্তর। একই সময়ে শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলার। বাজারে আলোচনা চলছে, সাবেক ফেড গভর্নর কেভিন ওয়ার্শকে পরবর্তী ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ার হিসেবে বেছে নেয়ায় ভবিষ্যতে কঠোর মুদ্রানীতি দেখা যেতে পারে।
ওয়ার্শ আগে থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে বড় পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলে আসছেন। বিশেষ করে তিনি ফেডের বিশাল ব্যালান্স শিট ছোট করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বাজারে ডলারের তারল্য কমে যেতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ, বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য নেতিবাচক সংকেত।
দীর্ঘদিন ধরে বিটকয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ফেডের শিথিল মুদ্রানীতির সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বাজারে সহজে অর্থপ্রবাহ থাকলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝুঁকেন।
উইসকনসিনভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যানেক্স ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান জ্যাকবসেন বলেন, ফেডের ‘ফুলে ওঠা ব্যালান্স শিট ও কঠোর ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ’ তারল্যকে মূল অর্থনীতির বদলে আর্থিক বাজারে আটকে রেখেছে। এর ফলে বন্ড, ধাতু, মিম শেয়ার ও ক্রিপ্টো বাজারে মূল্যবুদবুদ তৈরি হয়েছে।
শুধু বিটকয়েন নয়, দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথারের দামও শনিবার প্রায় ১২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩৮৭ ডলারে নেমে আসে। গত বছরের বড় ধসের পর থেকে ক্রিপ্টো বাজার দিকনির্দেশনা খুঁজে পেতে লড়াই করছে, যখন স্বর্ণ ও শেয়ারবাজারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হঠাৎ বড় পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় বাড়িয়ে দেয়, যা আরও বিক্রির চাপ তৈরি করতে পারে। জ্যাকবসেন সতর্ক করে বলেন, ‘এই ধরনের দরপতন অনেক সময় নিজেই আরও পতন ডেকে আনে। সামনে কয়েক দিন বাজারে আরও বিক্রি দেখা যেতে পারে।
একসময় ধারণা করা হয়েছিল, অনুকূল নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ার কারণে ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য সামনে ‘সোনালি সময়’ অপেক্ষা করছে। কিন্তু বাস্তবে গত অক্টোবরের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে বিটকয়েন ইতিমধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মূল্য হারিয়েছে।
Leave a Reply