বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার চাহিদা হঠাৎ বেড়েছে। এর প্রভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এদিকে স্বর্ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রুপার দাম বেড়ে ১২০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৫১৬ দশমিক ৭১ ডলারে। দিনের লেনদেনের শুরুতে দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলার স্পর্শ করে, যা নতুন রেকর্ড। টানা নয় কার্যদিবস ধরে স্বর্ণের দাম রেকর্ড গড়ছে। শুধু চলতি মাসেই ধাতুটির দাম প্রায় ২৮ শতাংশ বাড়ার পথে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচার ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫০৯ দশমিক ৬০ ডলারে। এদিন তা সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬২৬ দশমিক ৮০ ডলার পর্যন্ত ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা, সুদের হার কমার প্রত্যাশা এবং মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনা-সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ২৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষক জেমি দত্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, দুর্বল ডলার এবং ফেডের সম্ভাব্য সুদহ্রাস স্বর্ণের দামে একসঙ্গে প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফে বড় অঙ্কের বিনিয়োগও দামের উত্থানকে জোরদার করেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফ এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্ট জানিয়েছে, বুধবার তাদের স্বর্ণের মজুত বেড়ে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার ১৮১ আউন্সে দাঁড়িয়েছে যা ২০২২ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সর্বশেষ বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী জুনে সুদ কমানো হতে পারে। একই সঙ্গে ডলারের মান দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অ্যাকটিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো এভানজেলিস্তা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং বছর শেষে তা ৭ হাজার ডলারের দিকেও এগোতে পারে।
রুপার বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১১৭ দশমিক ৪২ ডলারে দাঁড়ায়, এর আগে ১২০ দশমিক ৪৫ ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করে। চলতি বছরে রুপার দাম প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। সরবরাহ ঘাটতি ও শিল্পখাতে শক্তিশালী চাহিদা এ উত্থানের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
এ ছাড়া স্পট প্লাটিনাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭৪৩ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য কমে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭০ ডলারে নেমেছে।
এদিকে দেশের বাজারে ভরিতে এক লাফে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
msw6eo