১৯৮৩ সাল। আমি তখন নবম শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৮১ সাল লেখালেখি থেকে শুরু করেছিলাম। আমার বাড়ি বাংলাদেশের খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর গ্রামে। তিন মাইলের বেশি কোথাও একা যায়নি। মনে মনে ভাবলাম লেখক হতে হলে বাড়ি থেকে বের হতে হবে। খুলনা থেকে পশ্চিমবঙ্গ কাছে। তাই একদিন কাউকে না বলে কলকাতার উদ্দেশ্যে গৃহ ত্যাগ করলাম। ভারতে পা দিয়ে প্রথম রাত কাটলো কলকাতার শিয়ালদা স্টেশনে। রাত তখন আটটা বাজে। বেশ কয়েকজন আর্ট কলেজের ছাত্র সামনে মানুষকে বসিয়ে ছবি আঁকছে। সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি। পরদিন দমদম স্টেশনের একটি চায়ের দোকানে কাজ পেলাম। মনে পড়ে গেল কবি নজরুল পেয়েছিলেন একটি রুটির দোকানে কাজ। দশ দিন করার পর কাজটি ছেড়ে দিলাম। দমদমে কূলির কাজ নিলাম। কূলির কাজ করতে করতে যুগল সেন নামক একজন ব্যবসায়ীর বাসায় কাজ পেয়ে গেলাম। তাদের বাসা সুভাস নগর । দমদমে তাদের দোকান। কয়েক দিন পর তিনি বললেন,
: তোমাকে নিয়ে কলকাতা যাবো, মাল আনার জন্য।
আমি মনে হয় খুব খুশি হলাম। এই কলকাতায় তো বড় বড় সাহিত্যিকরা বাস করেন।
কোন এক সকালে যুগল দাদা আমাকে নিয়ে দমদমে এলেন কলকাতা যাওয়ার উদ্দেশ্য। ট্রেনে আমরা শিয়ালদা স্টেশনে এলাম। ট্রেন থেকে নেমে আমরা ট্রামে উঠলাম। এটাই ছিল আমার প্রথম ট্রাম দেখা। মনে পড়ে গেল কবি জীবনানন্দ দাশ এই ট্রাম দুর্ঘটনায় নিহত। ট্রাম থেকে নেমে বললেন,
: তুমি কি হাওড়া ব্রিজের নাম শুনেছো?
: জি শুনেছি।
: মাল পরে কিনব। চলো হাওড়া ব্রিজ দেখে আসি।
তিনি আমাকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক সময় হাওড়া ব্রিজের উপরে এলেন।
: এদেশে গঙ্গা নদীর উপর হাওড়া ব্রিজ আর বাংলাদেশে পদ্মা নদীর উপর সাড়া ব্রিজ দুটো ইংরেজরা করেছিল। ১৯৮০ সালে আমাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পিকনিকে গিয়েছিলাম। ব্রিজের মাঝখানে কোন পিলার নেই। ব্রিজের উপর দিয়ে বড় বড় গাড়ি যখন যায় ব্রিজ টা তখন থরথর করে কাপে। মনে হয় এখনই মনে হয় ভেঙ্গে পড়বে। আমরা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নদীর দৃশ্য দেখলাম। বড় বড় জাহাজ চলে যাচ্ছে ব্রিজের নিচ দিয়ে। নদীর তীরে কিছু লোককে দেখতে পেলাম। তারা ধূলায় গড়াগড়ি করছে। তারপর নদীতে ঝাপ দিচ্ছে। আমরা এক সময় মালামাল কিনে দমদম ফিরে এলাম। আজ অনেক বছর হয়ে গেল কিন্তু সেই দিনের স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি।
Leave a Reply