বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনিপর টঙ্গী ও গাজীপুরের জনপ্রিয় নেতা নুরুল ইসলাম সরকার গত ২৩বছর অন্ধকার জেলে বন্দী রয়েছে। সম্প্রতি এ নেতাকে ঘিরে নতুন করে টঙ্গীতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
টঙ্গী ও গাজীপুরবাসীসহ বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে দাবী উঠেছে অবিলম্ভে আইনগত প্রক্রিয়ায় মধ্যদিয়ে নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির।
টঙ্গী ও গাজীপুরের রাজনীতিতে সৎ ন্যায় ও নীতির কারণে একসময় যার নাম উচ্চারিত হতো ব্যাপক জনসমর্থনের সঙ্গে, সেই বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘ কারাজীবনের কারণে টঙ্গীর বিএনপির রাজনীতি অনেকটাই নেতাশুন্য বলে মনে করেন টঙ্গীবাসী। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অন্ধকার কারাগারে থাকা এই নেতাকে ঘিরে নতুন করে পুণরায় আলোচনা শুরু হয়েছে টঙ্গীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে।
স্থানীয় নবীন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও তার অনুসারীদের একটি অংশের দাবি—নুরুল ইসলাম সরকার ছিলেন দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন জনপ্রিয় নেতা। তাদের প্রশ্ন, এত দীর্ঘ সময় পর তার মামলার আইনগত অবস্থান কি নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে?
স্থানীয় একাধিক বাভান্ন শ্রেনী পেশার প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টঙ্গীর রাজনীতিতে নুরুল ইসলাম সরকারের একসময় শক্তিশালী জনভিত্তি ছিল। তিনি শুধু নিজ দলের নেতাকর্মীদের নয়, ভিন্ন মতের রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন তিনি। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তার প্রতি একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতাসহ রাজনৈতিক বলয় তৈরি হয়েছিল। তার এই রাজনৈতিক বলয় আর সাধারণ মানুষের গ্রহনযোগ্যতা সে সময় রাজনৈতিক বিরোধীদের মধ্যে প্রতিহি!সার প্রতীক হয়ে উঠে।
ফলে, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকার সেই প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একটি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাভোগ করছেন, সেই মামলার বিষয়টি দীর্ঘ ২৩ বছর পর নতুন করে আইনগতভাবে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। স্থানীয়দের ধারনা, সরকার, আইন এবং বিচার বিভাগ বিষয়টি সুষ্ট নিরপেক্ষ এবং সুনিপন পর্যালোচনা করে ন্যায় বিচারের ধারা অব্যাহত রাখবেন এবং অবিলম্ভে তার মুক্তির দার উম্মুচিদ হবে। তাকে মুক্তি দিবেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,গাজীপুর এবং টঙ্গীর দুই জনপ্রিয় মুখ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। এর একজন কারাগারে বন্দী বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকার এবং অপরজন তৎকালীন এমপি শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার। গাজীপুরের রাজনীতিতে নুরুল ইসলাম সরকার ও শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয় দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং দুই নেতারই শক্তিশালী জনভিত্তি ছিল।
তবে তাদের ঘিরে ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে, তার সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য নথি প্রয়োজন। স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন, রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে জনপ্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে।
যার ফলে, বিএনপি সরকারের শাসনামলে ২০০৪ সালের ৭মে আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ড এবং এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম সরকারের দীর্ঘ কারাজীবনকে একই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখার চেষ্টাও করেন কেউ কেউ। তবে এ ধরনের দাবি আদালতের নথি ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করা না গেলেও আইন ও বিচার বিভাগের পর্যালোচনায় এর মূল রহস্য উৎঘাটন হবে এবং নুরুল ইসলাম সরকার মুক্তি পাবেন এ প্রত্যাশা টঙ্গী এবং গাহীপুরবাসিসহ স্থানীয় জনসাধারণ এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ।
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার জনসাধারণের দাবী নুরুল ইসলাম সরকার ভালো মানুষ ছিলেন :
টঙ্গীর কয়েকজন প্রবীণ নাগরিকের ভাষ্য, নুরুল ইসলাম সরকার ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন মিশুক ও জনসম্পৃক্ত মানুষ। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক ছিল দৃঢ়।
তার এক সমর্থক বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকে নুরুল ইসলাম সরকারকে দেখেছি। তিনি দল-মত নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পরও মানুষের মধ্যে তার প্রতি যে ভালোবাসা রয়েছে, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই।
আরেক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আদালতই তার বিচার করবে। কিন্তু দীর্ঘদিন পর মামলার পুরো বিষয়টি আইনগতভাবে পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ থাকলে সেটি করা উচিত।
গাজীপুর ও টঙ্গীবাসীর দাবী : তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ :
নুরুল ইসলাম সরকারের সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীসহ গাজীপুর ও টঙ্গীবাসী দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার মামলাগুলোর আইনগত অবস্থান পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে মামলাগুলো পর্যালোচনা করে তার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী।
নুরুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে থাকা শহীদ আহসান উল্লাহ হত্যা মামলার অভিযোগ : আদালতের রায় এবং বর্তমানে তার আইনি অবস্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই না করে তাকে নির্দোষ বা দোষী-কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলা যায় না। আইনগত প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের নিষ্পত্তিই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে এমনটাই প্রত্যাশা।
দীর্ঘ ২৩ বছরের কারাজীবন শেষে নুরুল ইসলাম সরকার কি আবার টঙ্গীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ফিরতে পারবেন-এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে। তার সমর্থকদের প্রত্যাশা, অতীতের রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে বিষয়টি খুব শীঘ্রই নিষ্পত্তি হবে এবং নুরুল ইসলাম সরকার অচিরেই কারামুক্ত হয়ে স্ব-মহিমায় পুণরায় সুষ্টধারার রাজনৈতিক জীবনে ফিরে আসবেন এমন প্রত্যাশা করছেন নুরুল ইসলাম সরকারের রাজনৈতিক সমর্থকসহ টঙ্গী এবং গাজীপুরবাসী।
Leave a Reply