শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

আগামীকাল শনিবার মহালয়া উদযাপনের মধ্যদিয়ে শুরু হবে সনাতনীদের দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা

মৃণাল টৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার

সনাতন (হিন্দু) সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় মহাউৎসব দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা আগামীকাল শনিবার মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে।
দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা বহনকারী মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন মন্দিরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ওইদিন ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়া অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এছাড়া শনিবার ভোরে রমনা কালী মন্দিরেও মহালয়া উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু।
মহালয়া পিতৃপক্ষের (পূর্বপুরুষদের স্মরণে নিবেদিত কৃষ্ণপক্ষ) সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের (শুভ পক্ষ) সূচনার বার্তা বয়ে আনে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা ও ব্রাহ্মণদের বস্ত্র দানের মাধ্যমে তাদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই দিনেই দেবী দুর্গা কৈলাসের নিজ আবাস থেকে মর্ত্যলোকে তাঁর পিত্রালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন, যা দুর্গাপূজা উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় (ঘোটক) চড়ে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ বছর দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।
এদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারের সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
এবিষয়ে বাসুদেব ধর বলেন, এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদও (বিএইচবিসিইউসি) দুর্গাপূজায় টানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পূজা শুরু হবে।
পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবকে সামনে রেখে সারা দেশের পূজা কমিটি, মন্দির ও মণ্ডপগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। উৎসব চলাকালীন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে।
১৬ অক্টোবর ‘মহা ষষ্ঠী’র মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে এবং মহা সপ্তমী, মহা অষ্টমী ও মহা নবমী পেরিয়ে ২১ অক্টোবর ‘বিজয়া দশমী’র মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে।
দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় মহাসপ্তমীর আগের দিন, অর্থাৎ মহাষষ্ঠীতে ‘কল্পারম্ভ’ এবং দেবীর প্রতিমা উন্মোচন বা ‘বোধনের’ মধ্যদিয়ে।
মহাসপ্তমীতে অনুষ্ঠিত হবে ‘নবপত্রিকা’ বা ‘কলাবউ’ স্নান ও পূজা; এতে দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্নান করিয়ে পূজা করা হয়।
মহাষ্টমীতে অনুষ্ঠিত হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সন্ধিপূজা’ যা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে পালন করা হয়। অন্যদিকে, মহানবমীতে পূজার শেষ ধাপের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা ও ‘ভোগ’ নিবেদনের আয়োজন থাকবে।
উৎসব যতই ঘনিয়ে আসছে, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে মণ্ডপগুলো জমকালো সাজসজ্জা, বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং নান্দনিক থিমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে।
পুরো উৎসবজুড়ে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মণ্ডপগুলোতে সমবেত হবেন; তারা প্রার্থনা করবেন, প্রসাদ গ্রহণ করবেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
দুর্গাপূজা কেবল একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
তবে, দুর্গাপূজা চলাকালীন নজরদারি জোরদার করতে কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৈরি একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে। মণ্ডপ আয়োজকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সার্বক্ষণিক জেনারেটর প্রস্তুত এবং বিদ্যুৎ বা জেনারেটর বিকল হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ব্যাকআপ হিসেবে রিচার্জেবল লাইটের ব্যবস্থা রাখেন।
ধর্মীয় মতে, পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষ: মহালয়ার দিন পিতৃপক্ষ শেষ হয় এবং দেবীপক্ষ শুরু হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে দেবী দুর্গা পৃথিবীতে অবতরণ করেন।
তর্পণ: এদিন নদী বা ঘাটে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories