মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ে নতুন সতর্কতা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টারা। একের পর এক নতুন ধরন নিয়ে দেখা দেওয়া এ ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের চেয়েও ভয়ংকর ভ্যারিয়ান্ট আসতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আর নতুন এই ধরনে আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি তিন জনে একজন মারা যেতে পারেন। মৃত্যুর হার বিবেচনায় ওই ভ্যারিয়েন্টকে মার্স ভাইরাসে মৃত্যুর হারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তারা এও বলেছেন, করোনা পুরোপুরি নির্মূল হবে না। নতুন নতুন ভ্যারিয়ান্ট আসতে থাকবে।
স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকারের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ ফর ইমার্জেন্সিস (এসএজিই) কর্তৃক গত শুক্রবার একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এই লেখায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, নতুন ভ্যারিয়ান্ট ভ্যাকসিনকে এড়াতে সক্ষম। অর্থাৎ, টিকা নেয়া ব্যক্তিকেও ওই ভ্যারিয়ান্ট আক্রমণ করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ধরন গঠিত হতে পারে দুইটি মারাত্মক ধরনের সমন্বয়ে। যেমন: বেটা ও আলফা বা ডেল্টা মিলে নতুন ধরন তৈরি করতে পারে।
এসএজিই সতর্ক করে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ধরন আসার সম্ভাবনা বাস্তব সম্মত। এজন্য এসএজিই এর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত হবে বাইরের দেশগুলো থেকে নতুন ধরন যাতে দেশে না ঢুকতে পারে তা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া। অর্থাৎ, দুইটি ভ্যারিয়ান্ট যাতে একসাথে মিলে পুনর্গঠিত না হতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে পূর্ণ ডোজের ভ্যাকসিন নেয়া ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে তাকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। এই নিয়ম চালু হবে ২ আগস্ট থেকে।
এসজিই এর বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা করতে যেখানে করোনার প্রকোপ বেশি সেখানে এবং যেখানে করোনায় আক্রান্ত হলেও মানুষ মারাত্মক অসুস্থ হচ্ছে না দুই জায়গার পরিস্থিতিই বিবেচনায় নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাজ্য সরকারকে বয়স্ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে দ্রুত টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন করতে বলেছে। মহামারি বিশেষজ্ঞ দীপ্তি গুরদাসানি বলেছেন, এসএজিই এর এই প্রকাশনা সকলের জন্য ‘কঠোর সতর্কবার্তা’।
টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘করোনা খুব শীঘ্রই দুর্বল হবে না। যারা বলে যে, করোনাকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের চলতে হবে, এটি মৌসুমি ভাইরাসের মতো হয়ে যাবে, ক্ষতি করবে না, তাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, দ্রুতই তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
Leave a Reply